শিংবিহীন গরু কোরবানি করা যাবে কি?
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশজুড়ে কোরবানির পশু কেনাবেচা শুরু হয়ে গেছে। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি গবাদিপশু কোরবানি করার অনুমতি রয়েছে ইসলামে।
ছয়টি গবাদিপশু বৈধ কোরবানির জন্য
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী কোরবানির জন্য যেসব পশু বৈধ সেগুলো হলো—গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। এদের বাইরে অন্য কোনো প্রাণী যেমন হরিণ বা খরগোশ খাওয়া হালাল হলেও, কোরবানি করার অনুমোদন নেই।
এক পশুতে কয়জন অংশ নিতে পারবেন?
ছোট আকৃতির পশু—ছাগল, ভেড়া, দুম্বা—একজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করা যায়। আর বড় পশু—গরু, মহিষ ও উটে সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারেন। তবে শরিকরা সকলেই যেন নিয়তের দিক থেকে কোরবানির উদ্দেশ্য নিয়ে অংশ নেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
গরু কেনার সময় কী দেখবেন?
দেশজুড়ে গরুই সবচেয়ে জনপ্রিয় কোরবানির পশু। তবে কেনার আগে নিশ্চিত হতে হবে গরুটি যেন সুস্থ, সবল ও শরীয়তসম্মত হয়।
-
বয়স: কোরবানির জন্য গরুর বয়স কমপক্ষে দুই বছর হতে হবে।
-
শারীরিক ত্রুটি: গরুটি চলাফেরা করতে না পারা, চোখে না দেখা বা অতিরিক্ত দুর্বল হওয়া—এসব ত্রুটি থাকলে কোরবানি গ্রহণযোগ্য হবে না।
-
শিং: শিং না থাকলেও সমস্যা নেই, যদি বয়স দুই বছর পূর্ণ হয়। তবে শিং ভেঙে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা গুরুতর ত্রুটি হিসেবে বিবেচিত হবে।
কোরবানির গুরুত্ব কী?
কোরআনের সুরা কাওসার ও সুরা হজে কোরবানির স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে পশুর মাংস বা রক্ত নয়, মানুষের ‘তাকওয়া’ বা আত্মনিবেদনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, “কোরবানি শুধু একটি পশু জবাই নয়, এটি আত্মত্যাগের প্রতীক। শরীর ও হৃদয়কে আল্লাহর প্রতি সমর্পণের নামই কোরবানি।”


