উল্লাপাড়ায় জামায়াতের সভায় ছাত্রলীগ নেতার উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক, তদন্ত দাবি জনমনে

দেশজুড়ে
উল্লাপাড়ায় জামায়াতের সভায় ছাত্রলীগ নেতার উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক, তদন্ত দাবি জনমনে
নিউজ ডেস্ক
১৮ জুন ২০২৫

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি কর্মীসভায় দেখা গেছে ছাত্রলীগের পরিচিত এক নেতাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে জামায়াতের মঞ্চে ওই নেতা অবস্থান করছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ১২ জুন উল্লাপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এক কর্মীসভায়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

ছবিতে দেখা যাওয়া যুবক উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হোসেন (২৪)। তিনি বজ্রাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আকবর আলী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী। ছবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার এমন বিরোধী রাজনৈতিক সভায় উপস্থিতি ঘটে?

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান। তিনি লিখেন, “উল্লাপাড়ায় জামায়াতের কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ নেতার উপস্থিতি নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে চরম বিপর্যয়।” এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও জানান তিনি।

স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, জাকারিয়া হোসেনের পারিবারিকভাবে জামায়াতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তার বাবা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের একজন সক্রিয় রোকন এবং পল্টন থানা কমিটির সদস্য। জাকারিয়া নিজেও স্বীকার করেছেন, “আমি আগে ছাত্রলীগে সক্রিয় ছিলাম, এখন আর নেই। বাবা বাড়িতে আসার সময় ওই সভায় নিয়ে যান।”

তবে এই ব্যাখ্যা স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলী বলেন, “জাকারিয়া হোসেন আমাদের সংগঠনের কেউ নয়, ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে চিনিও না। তবে যেহেতু বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

এই ঘটনা শুধু রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নই নয়, বরং স্থানীয় ছাত্র রাজনীতির প্রকৃত চরিত্র ও স্বচ্ছতা নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে দলগুলোর নেতা-কর্মীদের। রাজনৈতিক পরিচয়ের বিভ্রান্তি ও আদর্শ বিচ্যুতি কতটা সামাজিক ও সাংগঠনিক সংকট তৈরি করতে পারে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।