আমতলীতে বিদ্যালয়ের বই পোড়ানোর অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে ঘিরে বিতর্ক
বরগুনার আমতলীতে একটি বিদ্যালয়ের নতুন-পুরোনো বই ও আসবাবপত্র আগুনে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম কবিরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে আমতলী এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বই ও কিছু আসবাবপত্রে আগুন দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম কবির এসব বই ও সামগ্রী পুড়িয়ে ফেলেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় ২০ বছরের নতুন-পুরোনো বই ও কিছু আসবাবপত্র বিদ্যালয়ের একটি ভবনে সংরক্ষিত ছিল। সোমবার দুপুরে সেগুলোর একটি অংশে আগুন দেওয়া হলে বিদ্যালয় এলাকায় ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া ও জান্নাতি অভিযোগ করে বলে, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের অনেক নতুন ও পুরোনো বই আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছেন। এতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, কাউকে না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বইয়ে আগুন দিয়েছেন। তাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা উচিত। তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাই বই ও নথিপত্র ধ্বংসের মাধ্যমে কোনো তথ্য-প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম কবির বলেন, “উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু পুরোনো বই ও অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। কোনো নতুন বই নষ্ট করা হয়নি।”
বই ও আসবাবপত্র ধ্বংসের আগে প্রশাসন বা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না-এ প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার মো. গোলাম মাহমুদ সেলিম বলেন, “বই পোড়ানোর বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমাকে বা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আগে থেকে অবহিত করেননি।”
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।


