ঈদের আগে খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ-রসুন-আদার সরবরাহ বেড়েছে, দাম অর্ধেকে নেমে গেলেও বেচাকেনা কম
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাজাতীয় পণ্যের সরবরাহ। পেঁয়াজ, রসুন ও আদার মতো পণ্যে অভাবনীয় দামপতনের পরও বাজারে বেচাকেনা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে আমদানিকারক ও পাইকাররা লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে এখন দেশি জাতের পেঁয়াজের আধিপত্য। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পেঁয়াজে ঠাসা আড়তগুলো। চলতি বছর ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি না হলেও দেশি উৎপাদনেই চাহিদা মিটছে। ফলে গত বছরের তুলনায় পেঁয়াজের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বর্তমানে আড়তে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১৩ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে। খুচরা পর্যায়ে দেশাল জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, যা গত বছর ছিল ৬০–৭৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, “দেশি পেঁয়াজের মান এতটাই ভালো যে ভারতীয় পণ্যের প্রয়োজন নেই।”
রসুন ও আদার বাজারেও একই চিত্র। চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১১২–১১৫ টাকা কেজিতে, যেখানে গত বছর তা ছিল ১৭০ টাকার ওপরে। অথচ এই রসুন আমদানিতে খরচ পড়ছে প্রায় ১৫০ টাকা কেজিতে। ফলে প্রতিটি কনটেইনারে ১০–১২ লাখ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।
আদার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে বড় ধরনের মূল্যপতন। চায়না আদা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১১০–১১২ টাকা কেজি দরে, যা গত বছর ছিল প্রায় ৩০০ টাকা। কেরালা জাতের আদা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭৫–৮২ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী আবুল বশর বলেন, “আমদানির খরচ পণ্য বিক্রির দামের চেয়ে বেশি। এমন বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।” আরেক ব্যবসায়ী মো. আজগর হোসেন বলেন, “চাহিদা কম, আবার বাজারে পণ্যের জোগান বেশি। এর ফলে সবাই ক্ষতির মুখে।”
বাজারে মন্দাভাবের কারণে পণ্য সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা তুলনামূলকভাবে কম। তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই চাহিদা বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
খাতুনগঞ্জ লামারবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, “পেঁয়াজ, রসুন, আদার দাম এবছর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে। সরবরাহ বাড়ায় বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলেই আমরা আশাবাদী।”


