তিন কোটি টাকার বিল তদবিরে এসে জনতার হাতে আটক দুই শিক্ষার্থী

অপরাধ
তিন কোটি টাকার বিল তদবিরে এসে জনতার হাতে আটক দুই শিক্ষার্থী
নিউজ ডেস্ক
২ আগস্ট ২০২৫

ঝালকাঠির এলজিইডি অফিসে সরকারি প্রকল্পের বিল তদবিরে এসে জনতার হাতে আটক হন দুই শিক্ষার্থী। পরে পুলিশে সোপর্দ করার পর মুচলেকার ভিত্তিতে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

আটকরা হলেন—বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম (২৪) ও বরিশাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মেহেদী হাসান (২৫)।

জানা গেছে, তারা সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ স্টাফ শাওন খানের পক্ষে নলছিটি উপজেলার একটি তিন কোটি টাকার সড়ক ও ব্রিজ প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল তোলার তদবির করতে আসেন। এ সময় ঝালকাঠি এলজিইডি কার্যালয়ে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়, যা গড়ায় হাতাহাতিতে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পরবর্তীতে স্থানীয় ঠিকাদারদের উদ্যোগে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এলজিইডি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ওই দুইজন বিল ছাড়াতে চাপ প্রয়োগ এবং ঘুষের প্রস্তাব দেন। তবে আটক শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, তারা শুধু উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীরের দুর্নীতি বিষয়ে অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন।

ঘটনার পর সন্ধ্যায় ঝালকাঠি সদর থানায় হাজির হন স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, এনসিপি ও ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। ওসির কক্ষে এক সমঝোতায় পৌঁছানোর পর দুই শিক্ষার্থীকে ‘ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে’ বলে লিখিত মুচলেকা দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়।

থানার সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, “ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল, সিনিয়রদের উপস্থিতিতে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে।”

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, “এলজিইডির কর্মকর্তারা মৌখিকভাবে হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন। তবে লিখিত অভিযোগ না থাকায় এবং রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি আপসে নিষ্পত্তি হয়েছে।”

নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীর বলেন, “ওই দুইজন প্রকৃত ঠিকাদার ছাড়া এসে বিল তোলার চেষ্টা করেন এবং ঘুষের প্রস্তাব দেন। আমি তা প্রত্যাখ্যান করলে তারা বিভিন্ন দপ্তরে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে শুরু করেন।”