তেলের দামে অস্থিরতা, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি

তেলের দামে অস্থিরতা, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি
নিউজ ডেস্ক
১৭ জুন ২০২৫

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাগামছাড়া হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার এই অভিঘাত সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে আমদানি নির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই প্রস্তুতি না নিলে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে জ্বালানি নিরাপত্তা, রপ্তানি খাত এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, “বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়া, বাণিজ্যিক রুটে বিঘ্ন এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মারাত্মক চাপে ফেলতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলা ব্যাহত হলে বাংলাদেশ যেভাবে আমদানি ও রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল, তা বড় হুমকিতে পড়বে।”

বিশ্বব্যাপী উত্তেজনার কারণে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই-এর মতো জ্বালানি তেলের দর রেকর্ড হারে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৯০ থেকে ১২০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “তেলের দাম বেড়ে গেলে তা দেশের মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়িয়ে তুলবে এবং জনজীবনে ব্যয় বৃদ্ধি করবে।” তিনি যোগ করেন, “লোহিত সাগরে হুতি হামলার কারণে জাহাজ চলাচলের রুটে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব সরবরাহ ব্যয়ে ২০% পর্যন্ত বৃদ্ধি এনেছে।”

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে জ্বালানি আমদানিতে বড় বাধার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয় এই রুটে। বাংলাদেশও এই পথে জ্বালানি আমদানিতে নির্ভরশীল।

এদিকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, “পোশাকশিল্পের জন্য সময়মতো কাঁচামাল ও সাশ্রয়ী শিপিং সুবিধা না থাকলে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে।” তিনি জানান, চলমান সংকটে উৎপাদন ব্যাহত না হলেও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

অর্থনীতিবিদরা সরকারকে সতর্ক কৌশল নিতে পরামর্শ দিয়েছেন—যেমন: বিকল্প জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটের বিকল্প খোঁজা এবং তৈরি পোশাক খাতসহ রপ্তানিমুখী খাতগুলোকে প্রণোদনা প্রদান।

তারা বলেন, “যদি উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দিতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপে জনজীবন আরও সংকটে পড়বে।”