বিকেলে অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা
নিম্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ স্থবিরতা ও মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি আজ (বৃহস্পতিবার) ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নতুন মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট (MPS) প্রকাশ করবেন। এ বছরের মুদ্রানীতিকে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ‘নিয়মরক্ষার মুদ্রানীতি’— যেখানে কোনো বড় পরিবর্তন থাকছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মূল্যস্ফীতির উচ্চ অবস্থান বিবেচনায় রেখে সুদের হার ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের হার আগের মতোই রাখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত মুদ্রানীতিতে শিথিলতা সম্ভব নয়।
জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬.৪ শতাংশে, যা গত দুই দশকে সর্বনিম্ন। অথচ চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯.৮ শতাংশ।
২০২৫ সালের জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৪৮ শতাংশে। মে মাসে তা ছিল ৯.০৫ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য, টাকার অবমূল্যায়ন ও আমদানি নির্ভরতা এর প্রধান কারণ।
বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্ট’ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৩ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কিছুটা বেড়ে ৪.৯ শতাংশ এবং পরবর্তী অর্থবছরে ৫.৭ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এ ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যবসায়ীদের আস্থাহীনতা ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপ বর্তমান অর্থনীতির প্রধান বাধা। এক্ষেত্রে শুধু মুদ্রানীতিতে স্থিতাবস্থা রেখে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ প্রবাহ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।


