নতুন নোট এখনো মেশিনে অচেনা!
চালু হওয়ার পর দুই মাস কেটে গেলেও দেশের কোনো এটিএম, সিআরএম কিংবা মেট্রোরেলের টিকিট মেশিন এখনো ২০২৫ সালের নতুন নোট শনাক্ত করতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডিজাইনের ১,০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট চলতি বছরের ১ জুন থেকে বাজারে ছাড়ার পর থেকে এ সমস্যা শুরু হয়। এতে ব্যাংক গ্রাহকদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে প্রতিদিন।
নতুন নোট জমা দিতে গেলেই বেশিরভাগ বুথ তা ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। একই ধরনের সমস্যায় পড়ছেন মেট্রোরেল ব্যবহারকারীরাও—স্বয়ংক্রিয় টিকিট মেশিনে নতুন নোট দিয়ে টিকিট কেনা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বড় আকারের কারিগরি পরিবর্তনের আগে ব্যাংকগুলোর যথেষ্ট সময় ও প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে সফটওয়্যার আপডেট করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এখনো অনেক ব্যাংকের মেশিনে বিদেশি ভেন্ডরদের নির্ভর করতে হয়, যারা দ্রুত সিস্টেম আপডেট দিতে পারছে না। তবে তারা চেষ্টা করছে যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধান করতে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহ আলম পাটোয়ারি জানান, “আমরা ইতোমধ্যে ১০টি বুথে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন নোট শনাক্তের কার্যক্রম শুরু করেছি। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে সারাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।”
অন্যদিকে একটি বেসরকারি ব্যাংকের রিটেইল প্রধান বলেন, “নতুন নোটের ডিজাইন ও সিকিউরিটি ফিচার একেবারেই আলাদা। টেমপ্লেট তৈরি ও সফটওয়্যার আপডেট করতে সময় লাগে। সাধারণত এ প্রক্রিয়ায় ৩ মাস সময় লাগে। কিন্তু হঠাৎ নোট ছাড়ার ঘোষণা আমাদের প্রস্তুত হবার সময়ই দেয়নি।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, “প্রথম দিকে কিছু অভিযোগ পেয়েছিলাম। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। তবু নতুন কোনো অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঈদুল আজহার আগে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়া হয়, পরে আরও প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার নতুন নোট ছাড়া হয়েছে। কিন্তু যথাযথ বুথ প্রস্তুতি না থাকায় জনগণের হাতে আসলেও, ব্যবহারিক সুবিধা এখনো সীমিতই রয়ে গেছে।
নতুন নোটের প্রবর্তন, ডিজাইন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও, বাস্তব ব্যবহারে যান্ত্রিক ও সফটওয়্যার প্রস্তুতি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এই অভিজ্ঞতা হয়তো ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকবে।


