আড়াই বছর পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু

আড়াই বছর পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু
নিউজ ডেস্ক
২৬ আগস্ট ২০২৫

দীর্ঘ আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে আবারও বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার (২৫ আগস্ট) রাতে ভারতের একটি ট্রাকে প্রথম চালানে ১৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বেনাপোল বন্দরে পৌঁছায়।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে বাগেরহাটের ‘এস এম ওয়েল ট্রেডার্স’ এবং রপ্তানিকারক ছিল ভারতের ‘ন্যাশনাল ট্রেডিং করপোরেশন’। চালানটি ছাড় করতে কাস্টমস হাউসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘লিংক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমেট্রিক টন পেঁয়াজের আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে ৩০৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭,৪২৯ টাকা। আমদানিকৃত পেঁয়াজ বাজারে মানভেদে ৬০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ভারত থেকে আমদানির খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। একদিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম ৪ থেকে ৫ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিক্রেতা ও ক্রেতারা।

সকালে টেকনাফ, যশোর ও ঢাকার কিছু পাইকারি বাজারে যেখানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৭০ টাকা কেজিতে, সেখানে বিকেল নাগাদ তা নেমে আসে ৬৫ টাকায়।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, “দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার একসময় আমদানি বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ভারতও রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ফলে দেশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হয়।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে দেশে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ও মজুত যথেষ্ট হলেও, অতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ কারণে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে।”

বেনাপোল স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ জানান, “আজ এস এম ওয়েল ট্রেডার্সের আমদানিকৃত ১৫ টন পেঁয়াজ পরীক্ষা করে খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”

কৃষি তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর পেঁয়াজের চাহিদা ২৭ থেকে ২৮ লাখ মেট্রিক টন। অথচ গত বছর উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩২ লাখ মেট্রিক টন, যা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। গত দুই বছরে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি থাকা সত্ত্বেও, বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে মজুতদারি ও সিন্ডিকেট।

পেঁয়াজ কিনতে আসা ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “শুনেছি ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে, আর সঙ্গে সঙ্গেই দাম কমে গেছে। তার মানে আগের দামটা সিন্ডিকেট করে বাড়ানো হয়েছিল, এখন বোঝা যাচ্ছে।”