বড় দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়াল শেয়ারবাজার
দুই দিন টানা বড় দরপতনের পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজারে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকে উল্লেখযোগ্য উত্থান হলেও লেনদেনে দেখা গেছে ধীরগতি।
বিশ্লেষকদের মতে, দিনের শুরুতে বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা থাকলেও দুপুরের পর থেকে ক্রেতাদের সক্রিয়তা বাড়ায় সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে শেষ ঘণ্টার লেনদেনেই ঘুরে দাঁড়ায় বাজার।
দিনের শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৫০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫,৫২৩ পয়েন্টে।
অন্যান্য সূচকের মধ্যে:
-
ডিএসই–৩০ বেড়েছে ২১ পয়েন্ট (মোট: ২,১৫১ পয়েন্ট)
-
ডিএসই শরিয়াহ বেড়েছে ৮ পয়েন্ট (মোট: ১,১৯৬ পয়েন্ট)
তবে লেনদেনে ছিলো মন্দাভাব। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭৮ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৭১ কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে মোট ২৮২টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে,
যেখানে:
-
৫৪টির দাম কমেছে
-
৬৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভালো লভ্যাংশদাতা কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়লেও ‘জেড’ গ্রুপের কিছু শেয়ারে অস্বাভাবিক চাঙ্গাভাব দেখা গেছে।
দিনের লেনদেনে এগিয়ে ছিল:
-
খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ – ২৭.৭৯ কোটি টাকা
-
সামিট এলায়েন্স পোর্ট – ২৭.৪৩ কোটি টাকা
-
রবি আজিয়াটা – ২২.৯৫ কোটি টাকা
এছাড়া লেনদেনে শীর্ষ ১০-এ ছিল: ওরিয়ন ইনফরমেশন, সিটি ব্যাংক, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ, ডমিনেজ স্টিল, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সোনালী পেপার ও এস আলম স্টিল।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৯১ পয়েন্ট।
বাজারটিতে অংশ নেওয়া ১৯৫ কোম্পানির মধ্যে:
-
১০১টির শেয়ার বেড়েছে
-
৭৮টির কমেছে
-
১৬টির অপরিবর্তিত
তবে লেনদেন নেমেছে ১২.৭৬ কোটি টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েকদিনের টানা পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও আজকের ঘুরে দাঁড়ানো আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে লেনদেন কমে যাওয়াকে তারা সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন।


