সোনার বাজারে ধস: বিক্রি কমেছে ৮০%, নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে চোরাকারবারিরা ও জুয়াড়িরা
বাংলাদেশে সোনার বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একদিকে বিশ্ববাজারে রেকর্ড দামে ছুঁয়েছে সোনার মূল্য, অন্যদিকে দেশের বাজারে অলংকার বিক্রি কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ। এক ভরি ২২ ক্যারেট সোনার গহনা কিনতে এখন গুনতে হচ্ছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার বেশি। চড়া দামে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, আর জুয়াড়ি ও চোরাকারবারিরা বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে দেশের সোনার বাজারের আনুমানিক আকার ছিল দুই লাখ কোটি টাকা। চলতি বছর সেই বাজার ২০ শতাংশ সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে দেড় লাখ কোটিতে। ক্রেতা না থাকায় অনেক জুয়েলারি দোকান ব্যবসা সংকুচিত করে ফেলেছে। কর্মীদের বেতন-ভাতা দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন মালিকরা।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন,
“বিক্রি নেই বললেই চলে। অনেকেই ব্যবসার পরিসর ছোট করে ফেলেছেন। সামনে আরও কমতে পারে।”
প্রতিদিন দেশের স্থল, জল ও আকাশপথে প্রায় ২০০ কোটি টাকার অবৈধ সোনা ঢুকছে বলে জানিয়েছে বাজুস। এভাবে বছরে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকার সোনা চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আসছে। পোদ্দার ও বুলিয়ন বাজারের সিন্ডিকেট মিলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য ভয়াবহ চাপ তৈরি করছে।
বাজুসের সাবেক সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন,
“সোনার বাজার এখন আর ব্যবসায়ীদের হাতে নেই, চলে গেছে জুয়াড়িদের নিয়ন্ত্রণে। তারা বাজারকে ব্যবহার করছে জুয়ার দানের মতো।”
বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা। এর সঙ্গে ভ্যাট ও মজুরি যোগ হয়ে একজন ক্রেতার জন্য মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ৪৮০ টাকা। যা মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের নাগালের অনেক বাইরে।
বিশ্ববাজারে এক আউন্স সোনার দাম ১৬ সেপ্টেম্বর উঠেছে রেকর্ড ৩,৬৯১ ডলারে। এমন দাম ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলার নিয়ে অনাস্থা ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে অনেক দেশ সোনা কিনে রিজার্ভ করছে, যা মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।


