ভরা মৌসুমে সার সংকটে কৃষক, গ্যাসের দাম বাড়াতে গণশুনানি ডেকেছে বিইআরসি
ভরা আমন মৌসুমে সার সংকটে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা। এ অবস্থায় সার কারখানায় গ্যাসের দাম বাড়াতে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা নিয়ে ৬ অক্টোবর গণশুনানির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে এই শুনানিতে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার কৃষক ফুলজার হোসেন জানান, “সার খুব দরকার, কিন্তু ডিলারদের কাছে নেই। বাধ্য হয়ে খোলা বাজারে অনেক বেশি দামে কিনতে হয়েছে।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, নির্ধারিত ডিলাররা কৃষকদের কাছে সার বিক্রি না করে কালোবাজারিদের মাধ্যমে তা বেশি দামে বাজারে ছাড়ছেন। এ নিয়ে ‘রাষ্ট্র সংস্কার কৃষক আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন সম্প্রতি কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ করে।
একদিকে এই সংকট, অন্যদিকে সার উৎপাদনকারী কারখানাগুলোর গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পেট্রোবাংলার প্রস্তাবের ভিত্তিতে গণশুনানির আয়োজন করছে বিইআরসি, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের নাম জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব এই শুনানিকে “লোক দেখানো” আখ্যা দিয়ে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম অভিযোগ করে বলেন, “আইন অনুযায়ী গণশুনানির মাধ্যমে অংশীজনদের মতামত নেওয়ার কথা থাকলেও এখন সব সিদ্ধান্ত একচেটিয়াভাবে চেয়ারম্যানই নিচ্ছেন।”
এ বিষয়ে জ্বালানি খাতের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, “গণশুনানি একটি উন্মুক্ত প্রক্রিয়া। বিইআরসি দাম নাও বাড়াতে পারে, কিন্তু আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। গ্যাসের দাম বাড়লেই যে সারের দাম বাড়বে— তা সঠিক নয়।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টনের রাসায়নিক সারের চাহিদা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশই আমদানি নির্ভর। দেশের কিছু ইউরিয়া সার উৎপাদিত হলেও চাহিদা মেটাতে তা যথেষ্ট নয়।


