খেলনা রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত, ৮৮ দেশে পৌঁছেছে বাংলাদেশের পণ্য: ডিসিসিআই সভাপতি

খেলনা রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত, ৮৮ দেশে পৌঁছেছে বাংলাদেশের পণ্য: ডিসিসিআই সভাপতি
নিউজ ডেস্ক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের খেলনা শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, খেলনা শিল্পে বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা বাড়ালে এটি রপ্তানি খাতের বৈচিত্র্য, নারী কর্মসংস্থান ও টেকসই অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে ‘রপ্তানি খাতের বৈচিত্র্য: খেলনা শিল্পের উদ্ভাবন, রপ্তানি সম্ভাবনা ও বাজার সম্প্রসারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ৮৮টির বেশি দেশে প্রায় ৭৭ মিলিয়ন ডলারের খেলনা রপ্তানি করছে। বর্তমানে দেশে ১৪৭টি কারখানায় প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের ৮০ শতাংশই নারী। এ খাতে স্থানীয় বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা, যা ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক খেলনা বাজারের আকার ছিল ১০২ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩২ সালের মধ্যে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। চীন ধীরে ধীরে কমমূল্যের খেলনা উৎপাদন থেকে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশসহ বিকল্প উৎপাদক দেশগুলোর জন্য এটি বড় সুযোগ।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে কাঁচামালের উচ্চ আমদানি শুল্ক,আমদানি-নির্ভর প্যাকেজিং সামগ্রী,জটিল নিয়মনীতি ও লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা,আন্তর্জাতিক মান পরীক্ষার সুবিধা সীমিত হওয়া।

এসব সমস্যা মোকাবিলায় তিনি স্থানীয় পরীক্ষাগার স্থাপন, ডিজাইন ট্রেনিং, বিশ্ববিদ্যালয় ও টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সহযোগিতা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও বাণিজ্য মিশনের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস (পলিসি ও আইসিটি) সদস্য মোহাম্মদ মুবিনুল কবির, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডসন এবং বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামীম আহমেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, ডিসিসিআই সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

তাসকীন আহমেদ বলেন, “খেলনা শিল্প কেবল রপ্তানি বৈচিত্র্যে নয়, বরং নারী কর্মসংস্থান ও টেকসই অর্থনীতির ভবিষ্যতেও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।”