ছয় বছরে নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি

ছয় বছরে নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি
নিউজ ডেস্ক
২২ অক্টোবর ২০২৫

নেদারল্যান্ডসের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ছয় বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার, তা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে—যা ১১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রবৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাক খাত। বিশেষ করে নিটওয়্যার ও ওভেন পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। রপ্তানির অগ্রগতিকে টেকসই উৎপাদন, সময়মতো সরবরাহ এবং পণ্যবৈচিত্র্য বৃদ্ধির কৌশলগত প্রয়োগের ফল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

২০১৯-২০ অর্থবছর: $১.০৯ বিলিয়ন

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

২০২৩-২৪ অর্থবছর: $১.৯৩ বিলিয়ন

২০২৪-২৫ অর্থবছর: $২.৩৫ বিলিয়ন
বার্ষিক প্রবৃদ্ধি (২৪-২৫): ২১.৮%
ছয় বছরে মোট প্রবৃদ্ধি: ১১৫%+

২০২৪-২৫ অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি ২১.২১% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.০৮ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে নিটওয়্যার থেকে আয় ৩১.৬৯% বেড়ে ১.২১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, ওভেন পোশাক থেকে আয় হয়েছে ৮৭৯ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৯.০৪% বেশি।

টেক্সটাইল ও পুরাতন বস্ত্র: $৫০ মিলিয়ন

পাদুকা ও অনুরূপ সামগ্রী: $৯৬.৭৫ মিলিয়ন

হেডগিয়ার: $৭.৩৫ মিলিয়ন

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন,

“নেদারল্যান্ডসের বাজার পরিবেশ ও টেকসই উৎপাদনের প্রতি অত্যন্ত সচেতন। বাংলাদেশের পোশাক খাত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই দুই দিকেই বিশাল অগ্রগতি করেছে। এরই ফলে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা ও চাহিদা বেড়েছে।”

তিনি আরও জানান, আমস্টারডামে আয়োজিত ‘দ্য বেস্ট অব বাংলাদেশ ইন ইউরোপ’ প্রদর্শনী দুইবার সফলভাবে আয়োজনের মাধ্যমে অনেক রপ্তানিকারক নতুন ক্রেতা পেয়েছেন এবং উল্লেখযোগ্য অর্ডার সংগ্রহ করতে পেরেছেন।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন,

“নেদারল্যান্ডসের মতো বাজারে টিকে থাকতে হলে শুধু তৈরি পোশাকে নির্ভর করা যাবে না। ওষুধ, আইসিটি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চামড়া—এমন খাতে মনোযোগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে চামড়া খাতে ট্যানারি ব্যবস্থাপনায় পরিবেশ ও শ্রমমান নিশ্চিত করতে হবে।”

তার মতে, ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশে মান ও সনদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা উত্তরণে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার।

নতুন খাত: ICT, ওষুধ, চামড়া, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য

মূল চ্যালেঞ্জ: ইউরোপীয় নিয়ম মানা, টেকসইতা বজায় রাখা

প্রয়োজনীয় উদ্যোগ: মাননির্ভর উৎপাদন, রপ্তানি সহায়তা, বাজার বহুমুখীকরণ