৬ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে
মূল্যস্ফীতির চাপ, কর্মসংস্থানের সংকট, অসুস্থতা, জলবায়ু ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রবৃদ্ধি অন্তর্ভুক্তিমূলক না হওয়ায় এর সুফল প্রধানত ধনী শ্রেণি পেয়েছে— এমন তথ্য উঠে এসেছে বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য মূল্যায়ন ২০২৫’ প্রতিবেদনে।
মঙ্গলবার ঢাকার গুলশানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সার্জিও অলিভিয়েরি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআরআই নির্বাহী পরিচালক ড. জায়েদি সাত্তার এবং প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
২০১৬–এর পর ‘কম অন্তর্ভুক্তিমূলক’ প্রবৃদ্ধি
বিশ্বব্যাংক জানায়,
২০১৬ সালের পর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কম অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে ওঠে,
শ্রম আয়ের প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়,
২০২৩–২৪ সালে ২০ লাখ কর্মসংস্থান হ্রাস পায়,
২০২৫ সালে আরও ৮ লাখ চাকরি কমতে পারে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী ও তরুণরা।
প্রতি ৫ জন নারীর মধ্যে ১ জন বেকার,
শিক্ষিত নারীদের প্রতি ৪ জনে ১ জনের চাকরি নেই।
ঢাকার বাইরে কর্মসংস্থান প্রায় স্থবির।
মূল্যস্ফীতির আঘাত সবচেয়ে বেশি দরিদ্রদের ওপর
প্রতিবেদন অনুযায়ী,
দারিদ্র্যের হার ১৮.৭% থেকে বেড়ে ২২.২% হতে পারে।
অতি দরিদ্রদের আয় বাড়লেও মূল্যস্ফীতি তার চেয়ে দ্রুত বেড়েছে।
২০২৫ সালে নিত্যপণ্যের দাম করোনাকালের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।
সামাজিক সুরক্ষায় বড় অসঙ্গতি
সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ বাড়লেও তা কার্যকর নয়—
সুবিধাভোগীদের ৩৫ শতাংশই তুলনামূলক ধনী পরিবার,
অতি দরিদ্রদের অর্ধেকও সুবিধা পান না,
বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সার—এসব ভর্তুকি থেকেও বেশি লাভবান ধনী পরিবারগুলো।
বিশ্বব্যাংকের চার নীতিগত সুপারিশ
১. উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থান জোরদার করা
২. ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য শোভন কাজের সুযোগ সৃষ্টি
৩. আধুনিক শিল্পে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও দরিদ্রবান্ধব বাজারব্যবস্থা
৪. কার্যকর রাজস্বনীতি ও লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা
‘২০২২–২৫ সময়কাল এক ভয়াবহ বাঁক’ — ড. হোসেন জিল্লুর
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন—
২০১০–১৬ ছিল প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা,
২০১৬–২২ ছিল রাজনৈতিক অর্থনীতির বড় পরিবর্তন,
২০২২–২৫ সময়কালকে তিনি বলেন “উলটে যাওয়ার সময়”।
তার মতে, দারিদ্র্য ২৭ শতাংশে পৌঁছেছে, ২০২৪–এ চাকরি হারিয়েছে ২১ লাখ মানুষ, এর মধ্যে ১৫ লাখ নারী।
তিনি আরও বলেন—শিক্ষাব্যবস্থা দক্ষতাহীন, সমাজে হয়রানি এবং সিদ্ধান্তহীনতা ব্যবসাকে বাধাগ্রস্ত করছে, প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনাকে আরও গণমুখী করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মত
মূল প্রবন্ধের আলোচনায় অংশ নেন—
ড. একে এনামুল হক (বিআইডিএস)
ড. মোস্তাফিজুর রহমান (সিপিডি)
ড. সায়মা হক বিদিশা (ঢাবি)
উজমা চৌধুরী (প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ)
তাদের মতে, এখন জরুরি হলো কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক, জলবায়ুসহিষ্ণু ও দরিদ্রবান্ধব প্রবৃদ্ধি কৌশল গ্রহণ।


