ব্র্যাকের কার্নিভালে নজর কাড়ল ‘জলশিখা’ দলের পরিবেশবান্ধব কয়লা
সাভারের ব্র্যাক সিডিএমএতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘কার্নিভাল অব চেঞ্জ ২০২৫’। তরুণদের উদ্ভাবন ও সামাজিক পরিবর্তনের ধারণা তুলে ধরতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নারকেলের খোলস থেকে তৈরি পরিবেশবান্ধব কয়লা, যা প্রদর্শন করেছে ‘জলশিখা’ দল।
দলের সদস্য নাজমুল খান জানান, তারা ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় প্রায় ১০০ কেজি পরিবেশবান্ধব কয়লা সরবরাহ করেছেন। সামনে এই কয়লা ব্যবহার করে প্রসাধনী ও অন্যান্য উপকরণ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনের প্রদর্শনীতে জলশিখাসহ মোট ১২টি দল অংশ নেয়, যাদের মধ্যে অনেকেই সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করছে। বিকেলে ঘোষণা করা হয় ‘আমরা নতুন ইয়াং চেঞ্জমেকার্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এর ফলাফল। প্রাথমিকভাবে ৫০টি আবেদন থেকে বাছাই করা হয় ১২টি প্রকল্প, যার মধ্যে তিনটি দল চূড়ান্ত পুরস্কার জিতে নেয়।
বিজয়ী দলগুলো হলো—
স্টোরিজ অব ইনক্লুশন: প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য অডিওবুক প্রকল্প
জলশিখা: নারকেলের খোলস থেকে পরিবেশবান্ধব কয়লা উৎপাদন
গুডডু টয়েজ: শিশুদের শিক্ষামূলক খেলনা তৈরির প্রকল্প
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। বিজয়ীরা ব্র্যাকের সোশ্যাল এন্টারপ্রেনার্স ফেলোশিপ-এর সুবিধা পাবেন।
উদ্যোক্তাদের মতে, প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা শুধু পণ্য বিক্রির সুযোগই পাননি, বরং তাদের উদ্ভাবনকে আরও বড় পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ তরুণদের উদ্দেশে বলেন,
“নিজেকে জিজ্ঞেস করো, তোমার স্বপ্ন কী চায়। স্বপ্নকে অনুসরণ করো, নতুন কিছু করো—তাহলেই এগিয়ে যেতে পারবে।”
ব্র্যাকের ‘আমরা নতুন নেটওয়ার্ক’ (এএনএন) এই দলগুলোর প্রকল্প তৈরির প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে এসেছে। ২০১৮ সাল থেকে এএনএন দেশের ১৭টি জেলায় ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যাদের অনেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন।
‘কার্নিভাল অব চেঞ্জ ২০২৫’ চলবে আজ রোববার পর্যন্ত। প্রদর্শনী, কর্মশালা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে তরুণ উদ্ভাবকদের নতুন ধারণা ও উদ্যোগ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই আয়োজনের মাধ্যমে।


