বেনাপোল রেলপথে আমদানিতে ধস, ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট বেনাপোল-পেট্রাপোল রেলপথে আমদানিতে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। গত এক বছরে এই পথে খাদ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানির সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা এবং হতাশার সৃষ্টি করেছে।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই রুট দিয়ে মাত্র ৮,৩০০ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে, যার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২০২৫ সালে খাদ্যসহ কোনো পণ্য রেলপথে আসেনি। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭৮,২০০ মেট্রিক টন পণ্য রেলপথে এসেছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন বলেন, “আগে প্রতি সপ্তাহে চার থেকে ছয়টি রেক পাওয়া যেত। এখন কোনো সপ্তাহে একটিও রেক আসছে না। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে সড়কপথ ব্যবহার করছি। ভারতীয় রেলের রেক সময়মতো না আসা আমাদের সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ।”
রেলপথে আমদানি হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেছেন—
ভারতীয় রেলওয়ের রেক সংকট, বেনাপোল স্টেশনের পুরনো অবকাঠামো, আধুনিক যন্ত্রাংশের অভাব, শ্রমিক সংকট, কাস্টমস, রেল ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা
বেনাপোল রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান বলেন, “গত ছয় মাসে চাল, গম, ভুট্টা, মরিচ, পেঁয়াজ, আলু সহ কোনো খাদ্যপণ্য আসেনি। রেক সংকট আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়।”
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, “রেলপথ দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হওয়া উচিত। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে রেলবিভাগ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে, যাতে খালাসের সময় কমানো যায় এবং কাগজপত্রের জটিলতা দূর করা যায়।”
এদিকে ব্যবসায়ীরা স্থায়ী রেক সরবরাহ চুক্তি, আধুনিক রেল টার্মিনাল নির্মাণ এবং দ্রুত খালাস ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। তারা আশাবাদী, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে রেলপথে আমদানি পুনরায় স্বাভাবিক হবে।


