যাত্রী কমায় ধসের মুখে সাতক্ষীরার পরিবহন খাত

যাত্রী কমায় ধসের মুখে সাতক্ষীরার পরিবহন খাত
নিউজ ডেস্ক
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বেনাপোলের পর ভারতের সঙ্গে যাতায়াতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা লাগে। পর্যটক ভিসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং মেডিকেল ভিসা সীমিত হওয়ায় ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী যাতায়াত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বর্তমানে এ পথে দিনে যাতায়াতকারীর সংখ্যা একশ জনেরও নিচে নেমে এসেছে।

ভোমরা স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় গড়ে উঠেছিল নানা ধরনের ব্যবসা ও কর্মসংস্থান। ২০২৩-২৪ সালে কলকাতা যাতায়াতের জন্য এই বন্দরটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা থেকে অল্প সময়েই ভোমরায় পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় এবং বেনাপোলের তুলনায় ইমিগ্রেশনের চাপ কম থাকায় যাত্রীরা এই পথ বেছে নিচ্ছিলেন। সেই সুযোগে গ্রিন লাইনসহ একাধিক পরিবহন কলকাতা পর্যন্ত সরাসরি সার্ভিস চালু করে।

কিন্তু ভারতের ভিসা নীতিতে কড়াকড়ির পর পুরো চিত্র বদলে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে সাতক্ষীরার ভারতীয় ভিসা সেন্টারও। ফলে ভোমরা স্থলবন্দরকেন্দ্রিক অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে এবং কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

দূরপাল্লার পরিবহন ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশন সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি ও হানিফ পরিবহনের ম্যানেজার সরদার মুকুল বলেন, ‘আগে প্রতিদিন আমাদের পরিবহনে অন্তত একশ জন ভারতগামী বা ভারতফেরত যাত্রী থাকতো। এখন দিনে দশজন যাত্রীও পাওয়া যায় না।’ তিনি জানান, যাত্রীদের সঙ্গে থাকা স্বজন বা রিসিভার না থাকায় ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটে যাত্রী প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

এইচ আর ট্রাভেলসের ম্যানেজার আব্দুল আলীম বলেন, ‘আগে নিয়মিত ভারতীয় যাত্রীরাও আমাদের বাসে চলাচল করতেন। এখন একটি ট্রিপেও ভারতীয় যাত্রী পাওয়া যায় না।’ একই কথা জানান সোহাগ পরিবহনের ম্যানেজার শহীদুল কবির দুলাল। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনে সাতক্ষীরা-ভোমরাকেন্দ্রিক পরিবহন ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরিবহন মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, আগে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার যাত্রী যাতায়াত করতেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে শতকের ঘরে। যাত্রী সংকটে অনেক পরিবহন কোম্পানি ট্রিপ কমাতে বাধ্য হচ্ছে।

সাতক্ষীরা দূরপাল্লার পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি তাহমিদ শাহেদ চয়ন বলেন, ‘এ জেলা থেকে প্রতিদিন দুইশ’র বেশি দূরপাল্লার বাস চলাচল করে। কিন্তু ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম কমে যাওয়ায় প্রায় সব পরিবহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সমস্যা দীর্ঘ হলে পরিবহন খাতে বড় ধস নামতে পারে।’

উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু চালুর পর সাতক্ষীরার পরিবহন খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছিল। গত দুই বছরে ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটে বেশ কয়েকটি নতুন বাস কোম্পানি চালু হয়। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রায় ৪০টি পরিবহন কোম্পানির বাস ঢাকাগামী। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বিনিয়োগ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পরিবহন মালিকরা।