রমজানের আগেই খেজুরের বাজার অস্থির, শুল্ক কমিয়েও ঠেকানো গেল না দাম

রমজানের আগেই খেজুরের বাজার অস্থির, শুল্ক কমিয়েও ঠেকানো গেল না দাম
নিউজ ডেস্ক
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই খেজুরের বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে পরিচিত এই ফলের দাম গত এক মাসে জাতভেদে কেজিতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এমনকি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে জনপ্রিয় সাধারণ মানের খেজুরের দামও কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা। সরকার আমদানিতে শুল্কহার কমালেও বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

খুচরা বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি আরও বেশি চোখে পড়ছে। পাইকারি বাজারের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে খুচরা বাজারে খেজুর কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

প্রসঙ্গত, শুল্ক কাঠামোর কারণে খেজুরকে বিলাসবহুল পণ্যের তালিকায় রাখা হলেও প্রতি বছর রমজান মাসে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে সরকার শুল্কহার কমিয়ে থাকে। চলতি বছরও ২৩ ডিসেম্বর খেজুর আমদানিতে শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। এতে আমদানি বাড়বে এবং দাম কমবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। রমজানের আগেই খেজুরের দাম হু হু করে বেড়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বহুল ব্যবহৃত জাহিদী খেজুর বর্তমানে কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ছিল ২৫০ টাকা। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ৭০ থেকে ১০০ টাকা। ইরানি মরিয়ম খেজুর এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়, যা আগে ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা। কালমি মরিয়মের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে কেজিতে ৯০০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ৭০০ টাকা। সুক্কারি খেজুরের দামও ২০০ টাকা বেড়ে এখন কেজিতে ৮০০ টাকা।

এছাড়া আজুয়া, বরই, দাবাস, মাবরুম, মেডজুল ও আম্বারাসহ প্রায় সব ধরনের খেজুরের দামই গত এক মাসে কেজিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে আজুয়া খেজুর বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা, বরই ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দাবাস ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, মাবরুম ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং আম্বারা ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়।

মানিকনগরের মুন্না এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মহসিন মোল্লা বলেন, “গত এক মাসে প্রায় সব ধরনের খেজুরের দামই ১০০ টাকার বেশি বেড়েছে। সরকার শুল্ক কমালেও বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেনি। আমরা বেশি দামে কিনলে কম দামে বিক্রি করব কীভাবে?”

তবে পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, খুচরা বাজারে দামের ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ঢাকার সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার বাদামতলীতে জাহিদী খেজুরের পাঁচ কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়, যা কেজিতে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। ইরানি মরিয়মের পাঁচ কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ২০০ টাকায়। কালমি মরিয়ম পাঁচ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়।

বাদামতলী পাইকারি বাজারের সেসার্স আর এন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. এমদাদুল করিম বলেন, “গত এক মাসে খেজুরের দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে গত বছরের তুলনায় এখনো কম। আমদানিকারকরা বলছেন, সৌদি আরব ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশে খেজুরের দাম বেশি থাকায় আমদানিতেই খরচ বেড়েছে। সে কারণে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারও মানুষ তুলনামূলক কম দামে খেজুর কিনতে পারবেন।