সিগারেটের প্রতি শলাকার সর্বনিম্ন মূল্য ১০ টাকা করার দাবি

সিগারেটের প্রতি শলাকার সর্বনিম্ন মূল্য ১০ টাকা করার দাবি
নিউজ ডেস্ক
৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশের তরুণ প্রজন্মকে ধূমপান থেকে বিরত রাখতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিগারেটের কর কাঠামোতে পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর আয়োজনে ‘তামাক কর বৃদ্ধি: জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সাংবাদিকদের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাফিউন নাহিন শিমুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। এতে উপস্থিত ছিলেন শেখ মোমেনা মনি, বিসিআইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।

প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের বহুস্তর বিশিষ্ট তামাক কর কাঠামো জটিল এবং কার্যকর নয়। নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট সহজলভ্য থাকায় তরুণদের মধ্যে ধূমপান বাড়ছে। তাই আসন্ন বাজেটে এই দুই স্তর একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের খুচরা মূল্য সর্বনিম্ন ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা, প্রিমিয়াম স্তরে ২০০ টাকা এবং সব স্তরে প্যাকেট প্রতি ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অধ্যাপক সাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, “বর্তমানে বহুস্তর বিশিষ্ট কর কাঠামো প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট সহজলভ্য থাকায় ব্যবহারকারীরা এক স্তর থেকে অন্য স্তরে সরে যাচ্ছেন। এই দুটি স্তর একত্র করে দাম বাড়ালে তামাক ব্যবহার কমবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।”

সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী জানান, প্রস্তাবিত কর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

কর্মশালায় ‘তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার: অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি’ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্টফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিক এজাজ।