রেস্তোরাঁর পনির আসল নাকি নকল, বুঝবেন যেসব লক্ষণে

স্বাস্থ্য
রেস্তোরাঁর পনির আসল নাকি নকল, বুঝবেন যেসব লক্ষণে
১২ আগস্ট ২০২৬

রেস্তোরাঁয় পনিরের নানা পদ খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। কিন্তু পনিরের মান ও বিশুদ্ধতা নিয়ে অনেক সময়ই প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে দুধের পরিবর্তে উদ্ভিজ্জ তেল বা অন্যান্য উপাদান দিয়ে তৈরি ডেইরি অ্যানালগ পনির নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ। তাই বাইরে পনির খাওয়ার সময় কয়েকটি লক্ষণ খেয়াল করলেই প্রাথমিকভাবে এর মান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ফুডের এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে আসল ও নকল পনির চেনার কয়েকটি উপায় তুলে ধরা হয়েছে।

আসল পনির দেখতে কেমন?

শেফ হারপাল সোখির মতে, খাঁটি পনির চেনার ক্ষেত্রে এর গঠন বা টেক্সচার গুরুত্বপূর্ণ। ভালো মানের পনির সাধারণত নরম ও সামান্য আর্দ্র হয়। মুখে দিলে হালকা দানাদার বা সহজে ভেঙে যাওয়ার অনুভূতি পাওয়া যায়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

আসল পনিরে দুধের স্বাভাবিক গন্ধ ও স্বাদ থাকে। এর রং সাধারণত অফ-হোয়াইট বা হালকা ক্রিম ধরনের হয়। পনিরের ওপরিভাগও সাধারণত অতিরিক্ত চকচকে থাকে না।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

পনিরে অস্বাভাবিকতা থাকলে কয়েকটি বিষয় চোখে পড়তে পারে। যেমন—

  • পনির থেকে সয়া তেল বা পাম অয়েলের মতো অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া।
  • অতিরিক্ত উজ্জ্বল সাদা এবং অস্বাভাবিক মসৃণ দেখানো।
  • খাওয়ার সময় রাবার বা স্পঞ্জের মতো অনুভূত হওয়া।
  • কাটার সময় স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে গুঁড়ো হয়ে যাওয়া।
  • রান্নার সময় অতিরিক্ত পানি বের হওয়া, ভেঙে যাওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে গলে যাওয়া।

শেফ আমান কুমার ঝার মতে, এসব লক্ষণ দেখা গেলে পনিরের মান নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত।

সহজ ‘ফর্ক টেস্ট’

পনিরের গঠন বোঝার জন্য ঘরোয়া পর্যায়ে একটি সহজ পরীক্ষা করা যায়। কাঁটাচামচ বা চামচ দিয়ে পনিরের টুকরোয় হালকা চাপ দিন।

টাটকা ও খাঁটি পনির সাধারণত চাপে কিছুটা ভেঙে বা গুঁড়ো হয়ে যাবে। অন্যদিকে পনির যদি রাবারের মতো শক্ত হয় এবং চাপ দেওয়ার পর আগের অবস্থায় ফিরে আসতে চায়, তাহলে সেটি অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা ডেইরি অ্যানালগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

অস্বাভাবিক কম দামেও সতর্ক থাকুন

খাঁটি দুধ থেকে পনির তৈরি করতে তুলনামূলক বেশি খরচ হয়। তাই কোনো রেস্তোরাঁয় পনিরের কোনো পদ অস্বাভাবিক কম দামে পাওয়া গেলে সতর্ক হওয়া যেতে পারে। অবশ্য কম দাম মানেই পনির ভেজাল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়; এটি শুধু একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে।

সন্দেহ হলে কী করবেন?

রেস্তোরাঁয় পনিরের স্বাদ, গন্ধ বা গঠন অস্বাভাবিক মনে হলে সেটি না খাওয়াই নিরাপদ। প্রয়োজনে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের কাছে পনিরের উৎস ও উপকরণ সম্পর্কে জানতে পারেন।

তবে শুধু রং, গন্ধ বা ‘ফর্ক টেস্ট’ দিয়ে নিশ্চিতভাবে পনির নকল প্রমাণ করা যায় না। কোনো পণ্য ভেজাল কি না নিশ্চিত করতে হলে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড