ধূমপায়ীদের রক্তে মিললো মাইক্রোপ্লাস্টিক, রয়েছে হার্ট অ্যাটাকের উচ্চ ঝুঁকি
ধূমপান ও বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থাকলে মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক প্রবেশের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ইতালিতে পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। একই গবেষণায় রক্তে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতির সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের একটি উল্লেখযোগ্য সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি হার্ট অ্যাটাকের কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

রোমের সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির সান্ত’আন্দ্রেয়া হাসপাতালের গবেষক পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণায় হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালি থেকে ৬১ জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগী, হার্ট অ্যাটাক ছাড়াই হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং সুস্থ রক্তনালির রোগী ছিলেন।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ছিল। হার্ট অ্যাটাক না হওয়া হৃদ্রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ৪০ শতাংশ, আর সুস্থ রক্তনালির রোগীদের মধ্যে ছিল ৩২ শতাংশ।
ধূমপায়ীদের ঝুঁকি প্রায় ছয় গুণ
গবেষণায় ধূমপান ও বায়ুদূষণের সঙ্গে রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
গবেষকদের হিসাবে, ধূমপায়ীদের রক্তে উচ্চ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। একইভাবে, নিয়মিত উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেও রক্তে এসব কণার উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে।
ধূমপান ও বায়ুদূষণ—দুই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকা সব অংশগ্রহণকারীর রক্তেই উচ্চ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। বিপরীতে, এসব ঝুঁকির কোনোটির সংস্পর্শে না থাকা ব্যক্তিদের মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশের রক্তে উচ্চ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
গবেষকদের ধারণা, দূষিত বাতাস ও তামাকের ধোঁয়ার মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা সেখান থেকে রক্তপ্রবাহে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের কারণ হিসেবে এখনই বলা যাচ্ছে না
যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাকেনস্যাক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ড. ক্রেইগ বাসম্যান বলেন, হৃদ্রোগে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়া এসব কণা ও হৃদ্রোগের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
তবে গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক এমানুয়েলে বারবাতোর মতে, এর মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায়—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং পরিবেশগত দূষণ, রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং হৃদ্রোগের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্কের সম্ভাবনা সামনে এসেছে।
গবেষণাটি গত ১৫ জুলাই ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এতে মাত্র ৬১ জন অংশগ্রহণ করায় গবেষণার ফলাফলকে প্রাথমিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে শরীরে প্রবেশ করে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকিতে এর প্রকৃত ভূমিকা কতটা—তা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

