ত্রাণ সংগ্রহে গিয়ে প্রাণ গেল ফিলিস্তিনি জাতীয় বাস্কেটবল তারকার, ইসরায়েলি গুলিতে নিহত
গাজার খান ইউনিসে ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ফিলিস্তিন জাতীয় বাস্কেটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় মোহাম্মদ সালান। তিনি তার অসুস্থ মেয়ের জন্য খাবার ও ওষুধ আনতে বের হয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।
মোহাম্মদ সালান ফিলিস্তিনে ‘ভূমিকম্প’ নামে পরিচিত ছিলেন তার দুর্দান্ত খেলোয়াড়ি দক্ষতার কারণে। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি একাধিক স্থানীয় ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। তার মৃত্যু গাজায় চলমান সংকটে খেলোয়াড় ও ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের ভোগান্তির আরেকটি করুণ চিত্র তুলে ধরেছে।
সালানের কন্যা মরিয়ম জটিল কিডনি ও রক্তজনিত রোগে আক্রান্ত। মেয়ের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও খাদ্য জোগাড় করতে গিয়েই প্রাণ হারান এই প্রাক্তন অ্যাথলেট।
এর কয়েকদিন আগেই নিহত হয়েছিলেন আরেক ক্রীড়াবিদ, ফিলিস্তিন জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন তারকা সুলেইমান আল ওবেইদ। যিনি ‘ফিলিস্তিনি পেলে’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনিও একটি ত্রাণ কেন্দ্রে খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। তার মৃত্যু বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তোলে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬৩ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে রয়েছেন ৮০০ জনেরও বেশি অ্যাথলেট।
খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাইই আজ খাদ্য ও চিকিৎসার তীব্র সংকটে রয়েছেন। বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা এবং নিরাপত্তাহীনতা এখন গাজার প্রতিটি মানুষের প্রতিদিনের বাস্তবতা।
উল্লেখ্য, গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োহাভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।


