হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া নিয়ে ইরানকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া নিয়ে ইরানকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র
নিউজ ডেস্ক
৩১ জানুয়ারি ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পরিকল্পিত সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের কোনো ধরনের অনিরাপদ বা উসকানিমূলক আচরণ তারা গ্রহণ করবে না।

শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালীতে দুই দিনের নৌ-মহড়া চালানোর পরিকল্পনা করেছে, যেখানে সরাসরি গোলাবর্ষণও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ প্রেক্ষাপটে ইরানকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপদ ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল ব্যাহত হলে তা সংঘর্ষ, উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমা ও আকাশপথে কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার ইরানের রয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নিজেদের সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও বিমান রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে, কম উচ্চতায় বিপজ্জনক উড্ডয়ন, অস্ত্র বহন করে বিমান চলাচল, দ্রুতগতির নৌযানের ঝুঁকিপূর্ণভাবে এগিয়ে আসা কিংবা মার্কিন বাহিনীর দিকে অস্ত্র তাক করার মতো কর্মকাণ্ড তারা মেনে নেবে না।

এর আগে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ‘আব্রাহাম লিংকন’ নামের একটি বিমানবাহী রণতরী নেতৃত্বাধীন নৌবহর মোতায়েন করে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে এই নৌবহর ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে প্রস্তুত।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। ফলে এই এলাকায় সামান্য ভুল হিসাবও বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংকটের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, ইরানে চলমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের মূল্যপতনের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬ হাজার ১২৬ জন নিহত হয়েছেন। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার বলে স্বীকার করেছে।