ইরান ঘিরে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এখন শুধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষা চলছে বলে জানিয়েছে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম।
নিউইয়র্ক টাইমস, সিবিএস নিউজ ও সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত বিমান ও নৌ–সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে কয়েক দিনের মধ্যেই হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর বহর বর্তমানে ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চলে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে; সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এটি পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের কাছে ছিল। এছাড়া রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার ও ৫০টির বেশি অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকে জানানো হয়েছে—মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সব মার্কিন বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতিতে থাকবে, যাতে সম্ভাব্য পাল্টা হামলা প্রতিহত করা যায়।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরানের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তিতে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তার দাবি, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বড় আঘাত হেনেছে, তবে কূটনীতিই ট্রাম্পের প্রথম বিকল্প।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পর কিছু অগ্রগতির কথা জানানো হলেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষ এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক মাধ্যমে একটি এআই–নির্মিত ছবি পোস্ট করেন, যেখানে একটি মার্কিন রণতরিকে সমুদ্রগর্ভে ডুবে থাকতে দেখা যায়। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, রণতরির চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা তাকে সমুদ্রে পাঠাতে পারে।
অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেন, ইরানে নতুন হামলার পরিণতি ভালো হবে না এবং এটি ‘আগুন নিয়ে খেলার’ শামিল।
গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায় বলে পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছিল, যা অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি মাত্রা। সংস্থাটি জানায়, পারমাণবিক বোমা না থাকা দেশগুলোর মধ্যে এত উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধকরণ ইরানই একমাত্র করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক আলোচনার দ্বৈত পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র; তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হোয়াইট হাউসের হাতে।

