ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-আফ্রিকাকে সঙ্গে নিয়ে ‘হেক্সাগন’ জোট করতে চান নেতানিয়াহু

ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-আফ্রিকাকে সঙ্গে নিয়ে ‘হেক্সাগন’ জোট করতে চান নেতানিয়াহু
নিউজ ডেস্ক
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশকে নিয়ে ‘হেক্সাগন’ নামে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ জোটে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দেখতে চান তিনি।

বর্তমানে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইসরায়েলে অবস্থান করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সফরেই প্রস্তাবিত ‘হেক্সাগন’ জোট নিয়ে মোদি-নেতানিয়াহুর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘হেক্সাগন’ শব্দের অর্থ ষড়ভুজ। নেতানিয়াহুর ভাষ্যে, এমন একটি বহুপাক্ষিক জোট গঠন করা হবে যা এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করে নেতানিয়াহু ভারতকে ‘বৈশ্বিক শক্তি’ আখ্যা দেন এবং মোদিকে নিজের ‘ব্যক্তিগত বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, এ জোটে ভারতের পাশাপাশি আরব ও আফ্রিকার কয়েকটি মিত্র রাষ্ট্র, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের গ্রিস ও সাইপ্রাস এবং এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ থাকতে পারে।

নেতানিয়াহু বলেন, এ ধরনের জোট মৌলবাদী শিয়া ও কট্টরপন্থি সুন্নি শক্তির বিরুদ্ধে সমন্বিত কৌশল গ্রহণে সহায়ক হবে। তবে তিনি এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাননি।

প্রস্তাবিত জোট নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায়নি। উল্লেখ্য, গ্রিস ও সাইপ্রাস উভয়ই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-এর সদস্য। গাজায় সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, যা এখনও বহাল রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে ভারতের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নয়াদিল্লি ঐতিহ্যগতভাবে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে— যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপ, এমনকি ইরানের সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে।

ভারত-ইরান সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে ইসরায়েল-নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য কোনো কঠোর নিরাপত্তা জোটে যোগ দিলে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেস ক্রেইগ আলজাজিরাকে বলেন, নেতানিয়াহুর এ উদ্যোগ মূলত একটি আঞ্চলিক মেরুকরণ প্রকল্প। তার মতে, ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ থাকলেও বৃহত্তর মেরুকরণভিত্তিক জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি সতর্ক অবস্থান নেবে।

সব মিলিয়ে ‘হেক্সাগন’ এখনো প্রস্তাবের পর্যায়েই রয়েছে; সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে।