ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি সংবাদমাধ্যম। রোববার সকালে রাজধানী তেহরান থেকে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি এক বিশেষ ঘোষণায় জানায়, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। তিনি ইরানের মর্যাদা রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।” তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার ভোরে তেহরানে অবস্থিত খামেনির সরকারি বাসভবন লক্ষ্য করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা পর প্রথমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু খামেনির নিহত হওয়ার দাবি করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একই তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রথমদিকে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর খবর অস্বীকার করলেও, রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে সরকারিভাবে তা স্বীকার করা হয়।
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন খামেনি। এর আগে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা Ruhollah Khomeini ছিলেন দেশের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। তার মৃত্যুর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন খামেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামরিক কাঠামো এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ঘটনার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিক সামরিক প্রতিক্রিয়া ঘোষণা করেনি।


