আজারবাইজান থেকে ইসরায়েলে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকি ইরানের
ইসরায়েলের জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ মেটায় ককেশীয় অঞ্চলের দেশ আজারবাইজান। এই তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে রাজধানী বাকু থেকে তিবিলিসি হয়ে তুরস্কের ভূ-মধ্যসাগরীয় বন্দরনগরী জায়হান–এ পৌঁছে। সেখান থেকে তা রপ্তানি হয় তেল আবিব–এ।
এদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল তেহরান–এ হামলা চালায়, পরে তাতে যোগ দেয় ওয়াশিংটন। এর প্রেক্ষাপটে ৩ মার্চ বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরান।

আল জাজিরা–র প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের জেট ফুয়েলের প্রায় ৩০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হতে পারে। পাশাপাশি নৌপথে পরিবাহিত বিশ্বের মোট তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। অন্যদিকে মিডল ইস্ট আই জানায়, সমুদ্রপথে সরবরাহ করা বিশ্বের প্রায় ৩১ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও ২০ শতাংশ এলএনজি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
মিডল ইস্ট আইয়ের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের প্রধানের এক উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান শত্রুদের তেল পাইপলাইন লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এবং ওই অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে। কয়েকটি আরব দেশের কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, এ ধরনের বার্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যখন ‘শত্রুর তেলের লাইন’ লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলে, তখন তা মূলত ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)–এর মালিকানাধীন বাকু-তিবিলিসি-জায়হান (বিটিসি) পাইপলাইনকে ইঙ্গিত করতে পারে। এই পাইপলাইন ইরানের ভৌগোলিক নাগালের মধ্যেই রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, আজারবাইজানের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যবহার করে ইসরায়েল ইরান ও তেহরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে এবং সম্প্রতি সেই হামলার মাত্রা বেড়েছে। ফলে ইসরায়েলের জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোর কৌশল নিতে পারে তেহরান—এমন আশঙ্কাই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে।

