ইরানকে ‘নিঃশেষ’ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে আরব মুসলিম দেশগুলো
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে টানা ১৮ দিন ধরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পর্যন্ত চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে।
প্রথমদিকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এই যুদ্ধে সরাসরি কোনো সমর্থন দেয়নি। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একাধিক উপসাগরীয় সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-কে জানিয়েছে, এখন এসব দেশের অনেকেই চাইছে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখে।
সূত্রগুলোর মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর মূল উদ্বেগ হলো—ইরান যেন এই অঞ্চলের তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ এবং জ্বালানি-নির্ভর অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে না থাকে। তাদের আশঙ্কা, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ থাকলে ভবিষ্যতে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
একই সঙ্গে, পশ্চিমা ও আরব কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে এই যুদ্ধে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের পক্ষে আঞ্চলিক সমর্থন দেখাতে আগ্রহী, যাতে আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ সমর্থন বাড়ানো যায়।
এদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তেহরান শুরুতে শুধু মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালালেও, পরে বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও পরিবহন অবকাঠামোতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে।
বিশেষ করে দুবাই-সহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা এসব দেশের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ছয়টি উপসাগরীয় দেশে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান লক্ষ্য হলো—ইরানের সামরিক সক্ষমতা এমনভাবে দুর্বল করা, যাতে ভবিষ্যতে তারা আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে না পারে।
সৌদি আরবভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গালফ রিসার্চ সেন্টার-এর চেয়ারম্যান আব্দুলআজিজ সাগের বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে এখন এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ইরান অনেক দেশের নিরাপত্তা সীমা অতিক্রম করেছে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।


