বিশ্বের ১ম দেশ হিসেবে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল ফিলিপাইন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার জেরে বৈশ্বিক তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশটি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানিনির্ভর। ফলে সরবরাহে যেকোনো বাধা দেশটির জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলছে।

গত তিন সপ্তাহে দেশটিতে একাধিকবার জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে চাপ বাড়িয়েছে।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
মঙ্গলবার জারি করা এক নির্বাহী আদেশে প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সতর্ক করে বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ‘আসন্ন বিপদের’ মুখে রয়েছে। এই জরুরি ঘোষণার মাধ্যমে সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আইনি ক্ষমতা পেয়েছে।
সরকারি নির্দেশনায় জ্বালানি তেল, খাদ্য, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি মজুত বাড়াতে সরাসরি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে সরকারকে।
দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান ব্যবহারের হারে ফিলিপাইনের হাতে মাত্র ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
প্রেসিডেন্টের এই জরুরি আদেশ প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এর মেয়াদ বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে ওঠায় ফিলিপাইনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

