ইরানের বন্দর আব্বাসে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা

ইরানের বন্দর আব্বাসে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা
নিউজ ডেস্ক
১ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাস-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি বুধবার (১ এপ্রিল) জানায়, শহীদ হাক্কানি বন্দর লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

হরমোজগান প্রদেশ-এর উপ-গভর্নর আহমদ নাফিসি জানান, বন্দরটি মূলত যাত্রী পরিবহন ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হতো। হামলার পরপরই উদ্ধারকারী দল ও অগ্নিনির্বাপক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইরানি সূত্রের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ১,৩৪০ জন নিহত হয়েছেন। বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার এ ঘটনা সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও থেমে নেই। তারা জর্ডান, ইরাকসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান এই সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলছে। এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক তেলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হওয়ায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

ইরান অভিযোগ করেছে, বেসামরিক বন্দর লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন। একই সঙ্গে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

বর্তমানে বন্দর আব্বাস এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি