ইরানের হামলায় সৌদিতে বন্ধ তেল উৎপাদন
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে সৌদি আরব-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির পূর্বাঞ্চলে ছোড়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
এই পূর্বাঞ্চল সৌদির জ্বালানি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ তেল স্থাপনা এখানে অবস্থিত। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের পর এর ধ্বংসাবশেষ তেলক্ষেত্রের আশপাশে পড়ায় সাময়িকভাবে উৎপাদন ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সতর্ক সংকেত জারি করা হলে কিং ফাহাদ সেতু-তে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই সেতুটি সৌদি আরবকে বাহরাইন-এর সঙ্গে সংযুক্ত করে, যা আঞ্চলিক যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানি গণমাধ্যমের প্রকাশিত এক তালিকায় এই সেতুসহ অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবকাঠামোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তালিকায় শেখ জাবের কজওয়ে-এর নামও রয়েছে, যা কুয়েত-এ অবস্থিত এবং মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘতম সেতুগুলোর একটি।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাতে ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’ ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ভেতরে হামলা চালালে, ইরান পাল্টা হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১৮টি ড্রোন হামলা চালানো হয়, তবে সেগুলো প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে একাধিকবার সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। এতে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো, যাদের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।


