ভারতে মুসলিম নেতার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ
ভারতের উত্তর প্রদেশের রামপুরে অবস্থিত মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ভবন ভেঙে ফেলার প্রশাসনিক নোটিশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে উচ্ছেদ আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি ভবনের মধ্যে মাত্র দুটি বৈধ অনুমোদন নিয়ে নির্মিত হয়েছে। বাকি ৩৮টি ভবন নির্মাণবিধি লঙ্ঘন করে তৈরি হওয়ায় সেগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজ খরচে ভবনগুলো অপসারণ না করলে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে এবং এর ব্যয়ও বিশ্ববিদ্যালয়কেই বহন করতে হবে।
তবে সোমবার (২৭ জুলাই) রাজ্য প্রশাসন ভাঙার নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। যদিও এতে উচ্ছেদ আদেশ পুরোপুরি বাতিল হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জহিরুদ্দিন বলেন, স্থগিতাদেশের অর্থ কেবল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ কার্যক্রম হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতের মাধ্যমে পুরো আদেশ বাতিলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
২০০৬ সালে সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খানের উদ্যোগে প্রায় ২৫০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে এখানে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, উচ্ছেদ নোটিশ তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। আন্দোলনে মুসলিম শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অমুসলিম শিক্ষার্থীও অংশ নিয়েছেন।
সমাজবাদী পার্টির নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে লক্ষ্য করে নেওয়া পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠাতা আজম খানের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি টার্গেটে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠি বলেছেন, ভবন অপসারণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য জড়িত নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও অব্যাহত রয়েছে।


