ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী ধর্ষকদের রক্ষক: রাহুল গান্ধী
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রহ্লাদ জোশির হাতে দেওয়ায় মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা দাবি করেছেন, এই নিয়োগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও নারীদের প্রতি সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষা খাতে নানা সংকটের মধ্যে সরকার এমন একজনকে দায়িত্ব দিয়েছে, যিনি অতীতে ধর্ষণ মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের আগাম মুক্তির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন।

রাহুলের ভাষ্য, দেশের শিক্ষার্থীরা যখন শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে, তখন এমন ব্যক্তিকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রধানমন্ত্রী চাইলে অন্য কাউকে এ দায়িত্ব দিতে পারতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
একই ইস্যুতে লোকসভায় সরব হন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা। তিনি অভিযোগ করেন, ধর্ষণ মামলায় দণ্ডিতদের মুক্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়া একজনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে সরকার নারীদের প্রতি ভুল বার্তা দিচ্ছে।
প্রহ্লাদ জোশি ২০১৮ সালে গুজরাটের বহুল আলোচিত বিলকিস বানু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ১১ আসামির আগাম মুক্তির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, দীর্ঘদিন কারাভোগ ও কারাগারে ভালো আচরণের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
তবে ২০২৪ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সেই আগাম মুক্তির সিদ্ধান্ত বাতিল করে জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন আদেশ দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা ছিল না।
প্রসঙ্গত, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশজুড়ে আন্দোলনের মুখে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ধর্মেন্দ্র প্রধান। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টনমন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশিকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়। তার এই নিয়োগকে কেন্দ্র করেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

