কারাগারে ইমরান খানের তিন বছর, পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ

কারাগারে ইমরান খানের তিন বছর, পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ
৬ আগস্ট ২০২৬

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের কারাবাসের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তাঁর দল পিটিআই। একইসঙ্গে ইমরান খানের ওপর আরোপিত একাকী কারাবাস এবং মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

২০২৩ সালের ৫ আগস্ট দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে কারাগারে রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদ।

দেশজুড়ে পিটিআইয়ের বিক্ষোভ
বুধবার (৫ আগস্ট) কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই লাহোরসহ পাকিস্তানের একাধিক শহরে হাজার হাজার পিটিআই সমর্থক ও নেতাকর্মী রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ইমরান খানের অবিলম্বে মুক্তি ও রাজনৈতিক প্রতিশোধ বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পিটিআই তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক বার্তায় জানায়, “তিন বছর—হাজার হাজার দিন কারাগারের দেয়ালের পেছনে। তাঁর মনোবল ভেঙে দেওয়ার অগণিত চেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। অন্যায্য আটকের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও সংবিধানের লড়াই স্তব্ধ করা যাবে না।”

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অ্যামনেস্টির উদ্বেগ
আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক ইসাবেল লাসি বলেন, গত আট মাসেরও বেশি সময় ধরে ইমরান খানকে পরিবারের সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়নি এবং ডিসেম্বরের পর থেকে আইনজীবীদের সাথেও তাঁর স্বাভাবিক যোগাযোগ নেই।

তিনি বলেন, “পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে ইমরান খানের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার হরণ করছে। তাঁকে দীর্ঘমেয়াদী একাকী কারাবাসে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।” অ্যামনেস্টি অবিলম্বে ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির একাকী কারাবাস বন্ধ করে পরিবার ও আইনজীবীদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়।

এর আগে জাতিসংঘের নির্যাতন বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিও জানান, ইমরান খানকে দিনে প্রায় ২৩ ঘণ্টা একাকী কারাকক্ষে ক্যামেরার নজরদারিতে রাখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চরম লঙ্ঘন।

চোখের স্বাস্থ্য সমস্যা ও আদালতের দ্বারস্থ
ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁর ডান চোখে রেটিনার জটিলতা ধরা পড়ে। পিটিআইয়ের দাবি, পরিবার বা আইনজীবীদের না জানিয়েই সরকারি হাসপাতালে তাঁর চোখে পাঁচটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর এবং নিজস্ব চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসার সুযোগ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন বিবেচনাধীন রয়েছে।

সরকার ও সরকারের বাইরে দৃষ্টিভঙ্গি
সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী আল জাজিরাকে বলেন, “ইমরান খানের কারাদণ্ডের বিষয়টি স্বাধীন বিচার বিভাগের নজরদারিতে রয়েছে। সাধারণ বন্দিদের চেয়ে তাঁকে অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির শক্তিশালী সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের সাথে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং সমঝোতার অভাবই ইমরান খানের মুক্তির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।