ইসরায়েল ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলোর সামরিক ঐক্যের ডাক পাকিস্তানের

ইসরায়েল ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলোর সামরিক ঐক্যের ডাক পাকিস্তানের

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ফাইল ছবি

৯ আগস্ট ২০২৬

ইসরায়েলকে মুসলিম বিশ্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামরিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।

শনিবার (৮ আগস্ট) পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উদ্যোগের পরদিনই মুসলিম দেশগুলোর বৃহত্তর সামরিক ঐক্যের ডাক দিলেন তিনি।

খাজা আসিফ বলেন, ইসরায়েলের বিষয়ে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য থাকা প্রয়োজন। ফিলিস্তিন ইস্যুর স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বকে একসঙ্গে অবস্থান নিতে হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, ইসরায়েল শুধু ফিলিস্তিন নয়, পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্যই একটি নিরাপত্তা হুমকি। তাই এই হুমকি মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত সামরিক সহযোগিতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে খাজা আসিফ ব্রিটিশ সরকারের ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এর বিস্তার ঘটেছে।

ইসরায়েলের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও দেশটির ফিলিস্তিন নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, জেরুজালেমে কে ক্ষমতায় থাকছেন, সেটি মূল বিষয় নয়; ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের সামগ্রিক নীতিতেই পরিবর্তন প্রয়োজন।

খাজা আসিফ আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। তার মতে, ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা সামনে এসেছে। ফলে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে নতুন কোনো নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে।