সামিট-এক্সিলারেট চালুর পর গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৪০ কোটি ঘনফুট

সামিট-এক্সিলারেট চালুর পর গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৪০ কোটি ঘনফুট
১৫ আগস্ট ২০২৬

টানা গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকেই আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতির সাময়িক উন্নতি হয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জি থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। দুই টার্মিনাল মিলিয়ে এলএনজি থেকে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৭৬ কোটি ঘনফুট। সব উৎস মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুটে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি শুরু হয় শুক্রবার সন্ধ্যায়। সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। প্রথম দিকে সেখানে থেকে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলেও রাতের দিকে ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়ানো হয়। একই রাতে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকেও সীমিত আকারে সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়।

চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনও বড়

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ থাকে ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।

বর্তমানে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দৈনিক চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে। ফলে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য খাতে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দুই এলএনজি টার্মিনালেই সমস্যা

মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এক্সিলারেটের টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে টার্মিনালটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে অক্ষত বয়লার ব্যবহার করে ৬ আগস্ট সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার বিকেলে কারিগরি সমস্যায় সেই সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। মেরামতের পর রাতে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলতি সপ্তাহের শুরুতে সামিটের টার্মিনালে নতুন এলএনজি কার্গো যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে সরবরাহ চালিয়ে যেতে হয়। মজুত কমে যাওয়ায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমানো শুরু হয়। মঙ্গলবার তা প্রায় ২০ কোটি এবং বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সামিটের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে আবার সরবরাহ শুরু হয়। ধাপে ধাপে বাড়িয়ে শনিবার সকালে সামিট থেকে সরবরাহ প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়।

পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময়

গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও সংকট পুরোপুরি কেটে গেছে—এমন নিশ্চয়তা এখনও নেই। এক্সিলারেটের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। এ পরীক্ষার সময় টার্মিনাল থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট। এর একটি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হলে টার্মিনালটির গ্যাস সরবরাহ আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দুই টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম চালাতে না পারা পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে সাময়িকভাবে সরবরাহ বাড়লেও গ্যাস সংকট নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও রয়ে গেছে।