পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

সৌদি-তুর্কি-পাকিস্তানের জোটে যোগ দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ‘ইতিবাচক’

সৌদি-তুর্কি-পাকিস্তানের জোটে যোগ দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ‘ইতিবাচক’
২২ আগস্ট ২০২৬

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো সহযোগিতা কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ ধরনের অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করবে। যেকোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে সরকার। ফলে কোনো আন্তর্জাতিক জোট, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিংবা সহযোগিতামূলক কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও জোরদার হচ্ছে। স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই সৌদি আরব সফর করবেন বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সফরের মাধ্যমে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যা রয়েছে

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তির অন্যতম প্রধান বিষয় হলো—তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির আওতায় তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ এই সহযোগিতা কাঠামোয় যুক্ত হলে তা দেশের বিদ্যমান পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেটি জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক বাস্তবতার আলোকে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।