মক্কা চুক্তি বাংলাদেশকে দেবে বৃহত্তর নিরাপত্তার সুযোগ: সাবেক পাক রাষ্ট্রদূত

মক্কা চুক্তি বাংলাদেশকে দেবে বৃহত্তর নিরাপত্তার সুযোগ: সাবেক পাক রাষ্ট্রদূত
২৬ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হলে দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক কূটনীতিক সরদার মাসুদ খান। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাতিসংঘে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কূটনীতিকের মতে, উদীয়মান এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত উন্মুক্ত ও প্রতিরক্ষামূলক।

এক সাক্ষাৎকারে সরদার মাসুদ খান বলেন, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বার্তা বর্তমান পরিবর্তিত আঞ্চলিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক যোগাযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশই আঞ্চলিক শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং কোনো একক শক্তির আধিপত্য ঠেকানোর বিষয়ে আগ্রহী।

তিনি বলেন, মক্কা চুক্তি স্বেচ্ছাভিত্তিক এবং অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর জন্যও এর সুযোগ উন্মুক্ত। এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়নি। বরং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো এবং সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষাই এর মূল উদ্দেশ্য।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান প্রসঙ্গে সরদার মাসুদ খান বলেন, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কিছু অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার সমর্থনের মতো বিষয়গুলোতে দেশগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে।

তাঁর মতে, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে কোনো দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সরদার মাসুদ খান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে নিজের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় ঢাকার জন্য নতুন ধরনের নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্ভবত বাস্তবতা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করলেও বড় প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে পুরোপুরি দূরত্ব তৈরি করা বাংলাদেশের জন্য বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি আরও বলেন, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে ভারতের প্রতি বৈরী পদক্ষেপ হিসেবে দেখার কারণ নেই। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো একদিকে নিজেদের নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে পারে, অন্যদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারে।

ইরানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সরদার মাসুদ খান বলেন, বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে নিকট ভবিষ্যতে ইরানের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ভবিষ্যতে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর, বিশেষ করে সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা কমলে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে।

সবশেষে তিনি বলেন, বৃহত্তর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশটির কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে এটি মুসলিম বিশ্ব ও দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে।