হরমুজ নিয়ে ইরান-ওমানের সমঝোতা, যুক্তরাষ্ট্র শর্ত না মানলে খুলবে না প্রণালি: আইআরজিসি
হরমুজ প্রণালির জলসীমা এবং এ পথ থেকে অর্জিত রাজস্বের অংশীদারত্ব নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শর্ত মেনে না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছে তেহরান।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের অংশ। প্রায় এক মাস ধরে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালানোর পর দুই দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
মোহেবির ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় প্রণালির জলসীমায় দুই দেশের অংশ এবং এ পথ থেকে পাওয়া রাজস্ব কীভাবে ভাগ হবে, সে বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান-ওমানের আলোচনায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের কারণে সমঝোতা বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বাধা দেওয়া বন্ধ করে এবং সমঝোতার কাঠামো মেনে নেয়, তাহলে সেই কাঠামোর মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যথায় কোনো পরিস্থিতিতেই জলপথটি খুলে দেওয়া হবে না।
জাহাজ চলাচলে এখনও ঝুঁকি
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমলেও যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও পুরোপুরি এগোয়নি। একই সঙ্গে জাহাজে হামলার ঘটনাও অব্যাহত থাকায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। সংঘাত শুরুর পর জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গত রোববার (২৩ আগস্ট) ইরান ৪৫টি জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি উৎপাদনকারীদের তেল জাহাজে জাহাজে স্থানান্তরের কার্যক্রম ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর পর কিছু কোম্পানি কালো তালিকাভুক্ত জাহাজ ব্যবহার বন্ধের পরিকল্পনা করছে।
অন্যদিকে, ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আপাতত তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ইরানের তেল রপ্তানিতে সহায়তার অভিযোগ থাকা চীনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ইরান অবশ্য নিজেদের অর্থনীতি বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে ‘চরম বেআইনি কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন চাপের প্রচারণায় অনেক দেশ সাড়া দেবে না বলেও আশা প্রকাশ করেছে তেহরান।
আলোচনার আভাসে কমছে তেলের দাম
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তৃতীয় দিনের মতো তেলের দাম কমেছে। ব্যারেলপ্রতি দুই ডলারের বেশি কমে তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতের অবসানে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার সম্ভাবনা তৈরি হওয়াকেই বাজারের এই প্রতিক্রিয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


