ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধসেই নেপালে ভয়াবহ বন্যা; নিহত ১৫৭

ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধসেই নেপালে ভয়াবহ বন্যা; নিহত ১৫৭
২৭ আগস্ট ২০২৬

নেপালে বুধবার সকালে যে তীব্র কম্পনের পর আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, সেটি কোনো ভূমিকম্পের কারণে হয়নি। ভূমিধসের পর হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ নদীতে নেমে আসার ফলেই ভয়াবহ এই বন্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।

সংস্থাটি জানায়, নেপালের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে কাঠমান্ডুর উত্তরে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে ঘটনাটি প্রথমে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। পরে বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেটি ভূমিকম্প নয়; বরং হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল প্রবাহ।

স্যাটেলাইটের প্রাথমিক ছবিতেও এর প্রমাণ মিলেছে। প্ল্যানেট ল্যাবসের বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাসুয়াগড়ি সীমান্ত পারাপারের প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে লেন্দে নদীতে বরফ ও পাথরের ভূমিধসের ফলে ধ্বংসাবশেষবাহী বন্যার সৃষ্টি হয়। নদীটি ভোতে কোশি নদীর একটি শাখা, যা চীন থেকে নেপালের দিকে প্রবাহিত হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পরবর্তীতে ইউএসজিএস এই ভূমিধসের শক্তিকে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য হিসেবে নথিভুক্ত করে। প্রবল স্রোত নদীর নিম্নাঞ্চলে নেমে গিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

নিহত ১৫৭, নিখোঁজ শত শত

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলছে।

এদিকে দুর্যোগের কয়েক ঘণ্টা পর অন্তত ৪০৩ জন পর্যটকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানিয়েছে নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়। নিখোঁজদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয়। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও রয়েছেন।

কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে থাকা মানুষ ও মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

তিব্বতেও প্রাণহানি

নেপালের পাশাপাশি চীনের তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং এলাকায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

সীমান্তবর্তী এলাকায় ধারণ করা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, কাদা, পাথর ও পানির প্রবল স্রোতে ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে মানুষজন প্রাণ বাঁচাতে ছুটছেন।

স্বজনদের অপেক্ষা

নুয়াকোট ও ধাদিংয়ের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে নেপাল সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের বাইরে ভিড় করছেন। ওই কেন্দ্র থেকেই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

ভূমিধসে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। রাতের অন্ধকারে পুলিশ মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করছে।

দুর্যোগে বহু বাড়িঘর, গাছপালা ও যানবাহন কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছে। দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টারে উদ্ধার অভিযান চালানোর পাশাপাশি জীবিতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।