জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি আইআরজিসির
জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থান ও বিমান রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে চালানো হামলায় যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থাপনা এবং বিমান রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। তবে হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা মার্কিন বাহিনীর কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি ইরানি বাহিনী।
এর আগে ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছিল আইআরজিসি। ইরানের দাবি, জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) ভাষ্য অনুযায়ী, লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি রকেট উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এসব স্থাপনা থেকে হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইন ছোড়ার প্রস্তুতি চলছিল এবং সেগুলোকে সম্ভাব্য আসন্ন হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে তেহরানের দাবি, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। এর জবাব হিসেবেই জর্ডান ও আমিরাতে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
এদিকে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, জর্ডানকে লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন বাহিনী প্রতিহত করেছে।
তবে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্থাপনা ধ্বংসের বিষয়ে আইআরজিসির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। হামলায় মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ চায় না। তবে কোনো ধরনের আগ্রাসনের মুখে ইরান নীরব থাকবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা এবং এর পাল্টা জবাবে ইরানের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সংঘাতটি আঞ্চলিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


