‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের’ আনুষ্ঠানিক নাম চূড়ান্ত, সচিবালয় রিয়াদে

‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের’ আনুষ্ঠানিক নাম চূড়ান্ত, সচিবালয় রিয়াদে
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতাভুক্ত দেশগুলোর কৌশলগত, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠকে জোটটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জোটের সচিবালয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম মহাসচিব হিসেবে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে।

ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এসব তথ্য জানান। বৈঠকে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

হাকান ফিদান বলেন, মক্কায় স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার নতুন কাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা ও নেওয়া উদ্যোগগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, জোটটির লক্ষ্য হবে এ অঞ্চলের অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা কমানো। একই সঙ্গে জোটটি আরও সম্প্রসারণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। মূল নীতিগুলোর সঙ্গে একমত আরও দেশকে এতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তুরস্কের কর্মকর্তারা এর আগে মিসরসহ অন্যান্য দেশকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন।

ফিদান জানান, চুক্তি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম মহাসচিব হিসেবে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি জোটের সচিবালয় রিয়াদে স্থাপনের বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোট কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গঠিত নয়। আন্তর্জাতিক আইনের নীতি, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে জোটটি পরিচালিত হবে।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তিটি প্রকাশের পর জোটটির মূল লক্ষ্য ইরানকে প্রতিহত করা কি না, তা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ জল্পনা আরও জোরালো হয়। তবে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব এ ধারণা নাকচ করেছে। তারা জানিয়েছে, চুক্তির আওতাভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

হাকান ফিদান আরও বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে তুরস্কের অংশগ্রহণ ন্যাটোতে দেশটির সদস্যপদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। বরং নতুন জোটটি ন্যাটোসহ তুরস্কের অন্যান্য আন্তর্জাতিক জোট ও চুক্তির অধীনে থাকা দায়িত্বের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, কৌশলগত, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠকের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার দায়িত্ব নিতে নিজেদের প্রস্তুতি দেখিয়েছে।

নেতানিয়াহুকে ‘মানবতার সাধারণ শত্রু’ বললেন ফিদান

সংবাদ সম্মেলনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুরও তীব্র সমালোচনা করেন হাকান ফিদান। তিনি নেতানিয়াহুকে ‘মানবতার সাধারণ শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করে তাকে থামাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

ফিদান বলেন, নেতানিয়াহু ও তার সরকারের কর্মকাণ্ড শুধু তুরস্কের জন্য নয়, পুরো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্য, ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও এর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বা দখলদারিত্বের অবসান চান না বলেও অভিযোগ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।