৭ বছরের মধ্যে গাজা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে দিতে চান বেন-গভির

৭ বছরের মধ্যে গাজা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে দিতে চান বেন-গভির
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজা উপত্যকা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তার দাবি, পরিকল্পনাটি বাস্তবসম্মত এবং এর আওতায় প্রথম বছরেই গাজা থেকে আড়াই লাখ ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়া হবে। পরবর্তী ছয় বছরে উপত্যকার আরও প্রায় ২০ লাখ মানুষকে সরানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে দেওয়া এক বক্তব্যে বেন-গভির বলেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নিতে আগ্রহী কয়েকটি দেশ প্রস্তুত রয়েছে। তবে এসব দেশের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

বেন-গভিরের পরিকল্পনায় গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়াকে ‘স্বেচ্ছায় অভিবাসন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ২০ পৃষ্ঠার একটি কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছে তার দল জিউইশ পাওয়ার। পরিকল্পনাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ন্যাশনাল ওয়ার্ক প্ল্যান ফর ভলান্টারি এমিগ্রেশন ফ্রম দ্য গাজা স্ট্রিপ’।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে পরিকল্পনাটি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে দখল করা ভূখণ্ড থেকে বেসামরিক জনগণকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও কঠিন মানবিক পরিস্থিতির মধ্যে ‘স্বেচ্ছায়’ অভিবাসনের এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা স্বেচ্ছামূলক হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

গাজার ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি ইসরায়েলের কয়েকজন সংসদ সদস্য ও অন্য নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কারের আহ্বানও জানিয়েছেন বেন-গভির। তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত না থাকার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এমনকি এ তালিকায় ইহুদিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছেন তিনি।

বেন-গভির জানিয়েছেন, পরবর্তী সরকারে তার দল অংশ নিলে ‘অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি জানানো হবে। তার ভাষ্য, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাটি প্রায় দেড় বছর ধরে কাজ করার পর তৈরি করা হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট।

এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন চাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। একটি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আয়োজিত সম্মেলনে তিনি বলেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র অভিবাসনে ‘যে কোনো উপায়ে’ সহায়তা করবে ইসরায়েল। তার এই বক্তব্যও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব এর আগে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি গাজার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে উপত্যকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা হলেও পরে ওই প্রস্তাব থেকে সরে আসেন তিনি।

এদিকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তুলেছেন।

গাজা নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। অক্টোবরের নির্বাচনের আগে বেন-গভির তার উগ্র ডানপন্থি সমর্থকদের লক্ষ্য করে একের পর এক কঠোর বক্তব্য দিচ্ছেন।

জনমত জরিপে তার নেতৃত্বাধীন জিউইশ পাওয়ার দলটি প্রায় সাতটি আসন পেতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বেন-গভিরের বিরুদ্ধে অতীতে বর্ণবাদে উসকানি ও সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থনের অভিযোগে সাজা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ তার ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) গাজার একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করে জানান, গাজায় ইসরায়েলের দখলে থাকা এলাকাগুলো থেকে সেনারা সরে যাবে না। তার দাবি, ইসরায়েল বর্তমানে উপত্যকার প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং আরও এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে।

তবে ইসরায়েলের উপ-প্রধান সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল তামির ইয়াদাইয়ের হিসাবে, গাজার প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত বছর ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির সময় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৫৩ শতাংশ এলাকার তুলনায় বর্তমান নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।