ছয় সপ্তাহের মধ্যে আকস্মিক হামলা চালাতে পারে ইরান

ছয় সপ্তাহের মধ্যে আকস্মিক হামলা চালাতে পারে ইরান
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরান আকস্মিক হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিউনিশিয়ায় দায়িত্ব পালন করা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জোয়ে হুড। তার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়কে লক্ষ্য করে এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে তেহরান।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোয়ে হুড বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার ইতিহাস রয়েছে ইরানের। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের সময় তেহরান এমন পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে থাকে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জোয়ে হুড বলেন, জিমি কার্টারের সময় থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মেয়াদেও নির্বাচনের সময় ইরানের এমন তৎপরতা দেখা গেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তার মতে, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে ইরানের জন্য আরেকটি সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলে তা মার্কিন ভোটারদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

জোয়ে হুড বলেন, মার্কিন ভোটাররা পেট্রোলের দামের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিষয়টিকে তিনি আরব ভোটারদের রুটির দামের প্রতি সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলনা করেন।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে না। সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মতে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর পক্ষ থেকে ব্যতিক্রমী কোনো উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যদি ‘চমকপ্রদ কিছু’ নিয়ে এগিয়ে আসতে না পারে, তাহলে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার খুব বেশি কার্যকারিতা থাকবে না।

সমাধানের সম্ভাব্য পথ হিসেবে মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন জোয়ে হুড। তার মতে, এসব দেশ নিজেদের নৌশক্তি নিয়ে উপসাগর ও উত্তর আরব সাগরে উপস্থিত হয়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের প্রস্তাব দিতে পারে।

তিনি এমন একটি ব্যবস্থার কথা বলেন, যেখানে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো ঘোষণা করবে—হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে হামলা হবে না এবং এ ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধেরও প্রয়োজন হবে না।