হরমুজের বাইরে আরেকটি ‘নিষিদ্ধ সামুদ্রিক এলাকা’ তৈরি করবে ইরান

হরমুজের বাইরে আরেকটি ‘নিষিদ্ধ সামুদ্রিক এলাকা’ তৈরি করবে ইরান
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালির বাইরে নতুন একটি সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা এলাকা চালুর পরিকল্পনা করছে ইরান। ওই এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই।

ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রোববার টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের রেখা থেকে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের বিভিন্ন পণ্য ওঠানামার বন্দরের দিকে নতুন নিষিদ্ধ এলাকাটি বিস্তৃত হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে—এমন বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। রেজাই এটিকে ‘বড় মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা মার্কিন জাহাজগুলোর গতিবিধি ইরানি বাহিনী পর্যবেক্ষণ করছে। এ ধরনের জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

রেজাইয়ের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধ আরোপের আগে প্রতিদিন ১০০টির বেশি জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করত। এসব জাহাজে ১০ কোটি টনের বেশি পণ্য পরিবহন করা হতো। বর্তমানে সর্বোচ্চ ৭ থেকে ৮টি জাহাজ এই করিডর ব্যবহার করছে। এর বেশির ভাগই ইরানের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য বহন করছে বলে জানান তিনি।

হরমুজ প্রণালির অবরোধের কারণে ইরানে খাদ্যসংকট তৈরি হলেও দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে না বলেও দাবি করেন রেজাই। তার ভাষ্য, এমন পরিস্থিতির জন্য সরকার আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে এবং দেশে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরান তেল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে এবং সেই বিক্রির অর্থও পাচ্ছে।

তবে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, গত ৭২ ঘণ্টায় নৌ চলাচলের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলেছে—এমন কোনো নিশ্চিত ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ সময়ে তারা এমন কোনো ঘটনা দেখেনি বা এ ধরনের কোনো খবরও পায়নি।

তবে সংস্থাটি বলেছে, ইরান এখনো বিভিন্ন জাহাজের চলাচলে হস্তক্ষেপ করছে। কৌশলগত এই জলপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই ইরান এমন তৎপরতা চালাচ্ছে বলে মনে করছে ইউকেএমটিও।