একজোট হয়ে ইসরায়েলে বহুমাত্রিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

একজোট হয়ে ইসরায়েলে বহুমাত্রিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একযোগে বহুমাত্রিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। এ পরিকল্পনায় লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে একই সময়ে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার সময় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। হামাস এককভাবে অভিযান শুরু করায় একই সময়ে ইরান বা হিজবুল্লাহ অন্য ফ্রন্টে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। এবার সেই দুর্বলতা কাটিয়ে একযোগে একাধিক দিক থেকে হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

কুদস ফোর্সের মাধ্যমে সমন্বয়ের চেষ্টা

আরব গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট জানায়, তেহরান এবার শুরু থেকেই সবগুলো ফ্রন্ট একসঙ্গে সক্রিয় করার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।

এই সমন্বয়ের অংশ হিসেবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের বিভিন্ন ইরানপন্থি মিলিশিয়ার কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত জুলাইয়ে হামাসের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত খলিল আল-হায়ার সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও এই সমন্বয়কে আরও জোরদার করতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

হামাস-হিজবুল্লাহর সমন্বয় ফের সক্রিয়

সম্প্রতি হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আবারও সমন্বয় জোরদারের বিষয়টি শনাক্ত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দক্ষিণ ও উত্তর—দুই দিক থেকে ইসরায়েলের ওপর একই সময়ে চাপ তৈরির সম্ভাব্য কৌশলের অংশ হিসেবে এই সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে হিজবুল্লাহর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর ইরানের এই আঞ্চলিক জোটে ইয়েমেন ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর গুরুত্ব বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে জোর

ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো একই সঙ্গে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কার্যক্রম বাড়াচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব গোষ্ঠীর মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক ফ্রন্টকে একই সময়ে সক্রিয় করার সক্ষমতা তৈরি করতে পারলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে তেহরান বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে এমন পরিকল্পনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।