ইউক্রেনে রাশিয়ার ৫ লাখের বেশি সেনা নিহত, দাবি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধানের

ইউক্রেনে রাশিয়ার ৫ লাখের বেশি সেনা নিহত, দাবি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধানের
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ৫ লাখের বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা স্টাফের প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল স্যার রিচার্ড নাইটন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

নাইটনের হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর মোট হতাহতের সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের এই হিসাব ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত পরিসংখ্যানের সঙ্গেও অনেকটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধান বলেন, বিপুলসংখ্যক সেনা ও সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জনে রাশিয়া সমস্যায় পড়েছে। পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

যুদ্ধে রাশিয়ার বিপুল সামরিক সরঞ্জামও ধ্বংস হয়েছে বলে জানান নাইটন। তার হিসাবে, রাশিয়া ১০ হাজারের বেশি সাঁজোয়া ও সুরক্ষিত যান, প্রায় ৩ হাজার আকাশ প্রতিরক্ষা ও কামান ব্যবস্থা এবং ৩৭০টির বেশি উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার হারিয়েছে।

তবে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হতাহতের বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান দেননি তিনি। মস্কো ও কিয়েভ—দুই পক্ষই নিয়মিতভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সামরিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে না।

এদিকে ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলাও অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কিয়েভের সড়কপাশের জ্বালানি স্টেশনগুলোতে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, বেসামরিক মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে রাশিয়া বিমান হামলার পরিধি বাড়িয়েছে।

কিয়েভে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি উক্রনাফতার দুটি স্টেশনে হামলার ঘটনায় দুইজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রসিকিউটর কার্যালয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের জ্বালানি স্টেশনসহ বেসামরিক স্থাপনায় রুশ হামলা বেড়েছে। পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের সম্মুখসারির কাছাকাছি এলাকায় এসব হামলার প্রবণতা বেশি। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বেসামরিক জীবন ব্যাহত করা এবং মানুষের মনোবল দুর্বল করাই এসব হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে এমন স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে যেখানে মানুষ প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কাজে যায়। এর মাধ্যমে হতাহতের সংখ্যা বাড়ানো ও আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, বৃহস্পতিবার সাইবেরিয়ায় ৩ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরের একটি তেল শোধনাগারেও হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল খাতকে চাপে ফেলাই এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে কিয়েভ।

ফিনল্যান্ডভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে রাশিয়ার পরিশোধিত তেলজাত পণ্য রপ্তানি রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে দেশটি দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়িয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় হামলার কারণে রাশিয়ার তেল শোধন সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আগস্টে দেশটির জ্বালানি আমদানি বেড়ে ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়ায়, যা আগের মাসিক সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় সাত গুণেরও বেশি।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ইউক্রেন বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, দেশটির ১৬টি অঞ্চল, দখলকৃত ক্রিমিয়া এবং আজভ ও ক্যাস্পিয়ান সাগরের ওপর মোট ৭৭৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

রাশিয়ার তুলা অঞ্চলে রাতভর ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সারাতভ অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারেও ড্রোন হামলার পর আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতভর দূরপাল্লার হামলায় রাশিয়ার আটটি অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে সারাতভ অঞ্চলের একটি ব্যবসায়িক স্থাপনা ও তেল শিল্পের একটি স্থাপনাও রয়েছে।

জেলেনস্কির দাবি, এসব হামলার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার রাশিয়ার সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।

 

সূত্র : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস