ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার ঝুঁকি

সিআইএ’র প্রতিবেদন

ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার ঝুঁকি
৭ অক্টোবর ২০২৬

গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের কারণে ইসরাইল গৃহযুদ্ধ কিংবা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একটি গোপন মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে সিআইএ এখনো ওই মূল্যায়নের বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইদিন’ (ভেতর থেকে ফাটল) শিরোনামের ওই মূল্যায়নটি চলতি বছরের আগস্টে সিআইএর ‘রেড সেল’ শাখা তৈরি করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। রেড সেল মূলত প্রচলিত গোয়েন্দা বিশ্লেষণকে চ্যালেঞ্জ করে বিকল্প সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে। মূল্যায়নটির বিষয়ে দুই মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে ড্রপ সাইট নিউজ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের আগে ইসরাইলে বেশ কয়েকটি সংকট একসঙ্গে তীব্র হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং অতি-অর্থোডক্স ইহুদি পুরুষদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার রাজনৈতিক প্রচেষ্টাকেও দেশটির রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উত্তেজনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে গাজা, লেবানন ও ইরানে চলা সামরিক অভিযানও ইসরাইলি সমাজের বিদ্যমান বিভাজনকে আরও গভীর করেছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের পর সেনা ও রিজার্ভ সদস্যদের একটি অংশ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ফিরছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

অতি-অর্থোডক্স পুরুষদের সামরিক সেবায় ছাড়ের বিষয়টি দেশটির অন্যতম বড় অভ্যন্তরীণ বিভাজন হিসেবে উঠে এসেছে। একদিকে নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক রিজার্ভ সদস্যকে বারবার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে একটি বড় জনগোষ্ঠীর সামরিক সেবায় অংশগ্রহণ না করা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়াকেও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার সম্ভাব্য অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে এসব চাপ কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে, সেই সম্ভাবনাও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে ‘গৃহযুদ্ধ’ বা ‘রাষ্ট্রীয় ধস’ ঘটবেই—এমন কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে মূল্যায়নটিকে দেখা উচিত নয়। গোপন নথিটি প্রকাশ্যে না আসায় এর পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পদ্ধতি ও সম্ভাব্যতার মাত্রা স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব নয়।

ফলে সিআইএর কথিত এই মূল্যায়ন মূলত ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন, অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক দায়িত্বের ভারসাম্যহীনতা এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানের অবনতির সম্ভাব্য সম্মিলিত প্রভাব নিয়ে একটি সতর্কতামূলক বিশ্লেষণ হিসেবে সামনে এসেছে।