সেনাবাহিনীর টানা অভিযানে গ্রেফতার ১৫ হাজার, উদ্ধার বিপুল অস্ত্র-মাদক
সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গত তিন সপ্তাহে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৫৬টি অবৈধ অস্ত্র, ৯৯০ রাউন্ড গুলি এবং ৪৫২ জন মাদক ব্যবসায়ীসহ মোট ৯৯৬ জন অপরাধী গ্রেফতার করা হয়েছে। আর গত ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ১৫ হাজার ২৬২ জনকে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সেনাসদরের মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম।
সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে ধরা পড়েছে একাধিক চিহ্নিত সন্ত্রাসী। কুষ্টিয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছে সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী এবং তার সহযোগী মোল্লা মাসুদ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার হাতিরঝিল থেকে ৫টি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার করা হয় আরও দুই সহযোগী— শুটার আরাফাত ও শরীফকে।
একই দিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বুড়িগঙ্গা ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে ধরা পড়ে এক্সেল বাবু নামে কুখ্যাত এক সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
৪ জুন মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প থেকে গ্রেফতার হয় বুনিয়া সোহেল ও তার ১০ সহযোগী। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৩০টির বেশি মামলা। ৬ জুন কক্সবাজারের মাঝিরকাটায় ধরা পড়ে শাহীন ডাকাত। তার বিরুদ্ধে ২০টির বেশি মামলা রয়েছে। ওই অভিযানে উদ্ধার হয় ৪টি অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং মাদকদ্রব্য।
কুষ্টিয়ার দুর্বাচর এলাকায় ৬ জুন গ্রেফতার করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী লিপটনসহ আরও চারজনকে। অভিযানে উদ্ধার হয় ৬টি বিদেশি পিস্তল, একটি লং ব্যারেল গান এবং ১১৯ রাউন্ড গুলি।
গত তিন সপ্তাহে সেনাবাহিনী ৪৫২ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৭৬ জনকে মাদক সংশ্লিষ্টতায় গ্রেফতার করেছে। অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, দেশি-বিদেশি মদ।
সাভারে গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানার আড়ালে চলা একটি অবৈধ মদ তৈরির কারখানা বন্ধ করা হয়। জব্দ করা হয় ৮,৬২০ লিটার মদ ও বিপুল কাঁচামাল।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেনাবাহিনী দ্রুত বাঁধ মেরামতে এগিয়ে আসে। একইভাবে হবিগঞ্জে বন্যাদুর্গত এলাকায় দাঁড়ায় সেনাবাহিনী। ঈদের দিন বন্যার্তদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ইস্যুতে পদক্ষেপ নেয়।
এছাড়া মিরপুরে একটি চকলেট কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ৭ লাখ টাকা জরিমানা এবং সাময়িক বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
“অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” — কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম


